হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack)
হার্ট অ্যাটাক কি ?

হৃদযন্ত্রে(Heart) সঠিক পরিমাণে এবং সময়ে রক্তের প্রবাহ(Blood Flow) ঠিক না থাকলে তবেই হার্ট অ্যাটাক হয়।
সাধারণত, হার্ট অ্যাটাকের(Heart Attack) ঝুঁকি তখনই বাড়ে যখন হৃদপিণ্ডে কোনও সমস্যা দেখা দেয়।
মূলত, হৃদযন্ত্রে(Heart) সঠিক পরিমাণে এবং সময়ে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ(Blood Flow) ঠিক না থাকলে তবেই হার্ট অ্যাটাক হয়।
হার্টের মধ্যে থাকা রক্তনালীর ভিতরে জমে প্লাক। এবার এই প্লাক জমার কারণে হার্টে ঠিকমতো রক্ত চলাচল হতে পারে না। এই কারণে হার্টে ঠিকমতো পৌঁছয় না অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত। হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন হার্ট নিজের কাজ করতে পারে না। এই অবস্থার নামই হার্ট অ্যাটাক।
মূলত, যে খাবার আমরা খাচ্ছি বা যেভাবে দিন যাপন করছি তাতেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়েছে।
হার্ট অ্যাটাক কেন হয়?
শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত চলাচল ঠিকমতো না হলে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হয় এবং এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়। হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত ঠিকমতো পৌঁছায় না, তখন শিরায় চাপ পড়ে এবং তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক।
সংক্ষেপে হার্ট অ্যাটাকের কারণ:
১।উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন
২। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যথা গরুর গোশত, ডিম বা ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার ইত্যাদি
৩। সিগারেট স্মোকিং বা জর্দা ইত্যাদি
৪।অবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন
৫। এলকোহল, কোমল পানীয়
৬।পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা
৭। শারিরীক পরিশ্রম না করা
৮। সবসময় শুয়ে থাকা ইত্যাদি।
হাই প্রেশার :
রক্তনালীর মধ্য থেকে প্রবাহিত হওয়ার সময় নালীর দেওয়ালে রক্ত যে চাপ তৈরি করে তা হল ব্লাডপ্রেশার। এবার এই প্রেশার বেশি হলে সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। প্রেশার বেশি থাকলে গোটা দেহে রক্ত পৌঁছাতে হার্টকে বেশি কসরত করতে হয়। এবার এই অত্যধিক কাজ করার জন্য হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, হার্ট ফেলিওর ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কোলেস্টেরল :
ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রায়শই যুবকরা মোটা হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা হার্ট অ্যাটাক হয় ।
কোলেস্টেরল হল রক্তে থাকা মোম জাতীয় পদার্থ। এক্ষেত্রে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের প্রয়োজন। কিন্তু সেক্ষেত্রে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে গেলেই সতর্ক হতে হয়।
আসলে এই কোলেস্টেরল জমে রক্তনালী ভিতর।এবার রক্তনালীর ভিতর কোলেস্টেরল জমার কারণে সেই অংশে রক্ত চলাচল ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না। এবার এই ঘটনা হার্টের আর্টারির মধ্যে ঘটলে সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক।
ওজন বেশি :
ওজন বেশি থাকলে নানা ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। হার্টের নানা রোগের আশঙ্কা বাড়ে। ওজন বেশি থাকলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইট ইত্যাদি বেশি থাকে। এছাড়া ওজন বেশি থাকলে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কাও বাড়ে। এই সব বিষয়গুলি মিলিয়ে হার্টের অসুখের আশঙ্কা বাড়ায়।
একাকিত্ব:
এটিও হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। একাকিত্ব মারাত্মক পরিমাণে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।
অবসাদ:
একাকিত্বের মতোই এটিও হৃদরোগের কারণ। যাঁদের এই সমস্যা থাকে, তাঁদের চলাফেরা কমে য়ায়। তাঁরাও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটান। এটিও শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।
কোকেন:
যাঁরা কোকেনের মতো মাদক সেবন করেন, তাঁদের হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। কারণ এই জাতীয় মাদকও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
সংক্ষেপে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ:
১। চলতে ফিরতে বুকে ব্যাথা হয়
২। শ্বাসকষ্ট হয়
৩।খাবার পরে বুকে ব্যাথা হয়,
৪।একটু টেনশন করলে বুকে ব্যাথা হয়,
৫। মাথা ঘোরানো এবং মাথা ব্যাথা
৬।ঘাড় কিংবা বাহুতে ব্যাথা
৭। বমি বা বমির ভাব
বুকে ব্যথা: হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুকে ব্যথা, সাধারণত বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আস্তে আস্তে সেই ব্যথা চোয়ালে অথবা বাম কাঁধ ও হাতে ছড়িয়ে পড়ে থাকে। এই রকম ব্যথা দেখা দিলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শ্বাসকষ্ট ও দম ফুরিয়ে যাওয়া: যদি আপনার শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও সমস্যা না থাকে এবং হঠাৎ করে শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, তবে সেটা খারাপ লক্ষণ। মূলত হৃদরোগ থেকে ফুসফুসে জল জমা-সহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঠান্ডা ছাড়াও শ্বাস কষ্ট এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া, মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া: অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা হওয়া ছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ শরীর খারাপ লাগতে শুরু করলে অব্যশই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
কাশি: আপনার যদি দীর্ঘ দিন কাশির সমস্যা থাকে, এবং তার সঙ্গে সাদা বা কিছুটা ঘোলাটে কফ বের হয়। তবে বুঝতে হবে আপনার হার্ট ঠিক মতো কাজ করছে না। ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে হ্যাঁ, কাশি সব সময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নাও হতে পারে। কফের সঙ্গে নিয়মিত রক্ত বের হলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: যদি কাজ করার মধ্যেই আপনি প্রায়ই হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যান, তা হলে বুঝবেন হার্টের সমস্যা রয়েছে।
মাথা ব্যথা: যখনই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, আমরা ওষুধ খেয়ে থাকি। কিন্তু জানেন কি, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হল প্রতিদিনের প্রচণ্ড মাথা ব্যথা?
অনিয়মিত পালস রেট: আপনি যদি অনেক বেশি নার্ভাস থাকেন বা কোথাও থেকে দৌড়ে আসেন আপনার পালস রেট ওঠা-নামা করতে পারে। তবে এটি যখন কোনও কারণ ছাড়াই হয়, তবে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হার্ট অ্যাটাকের আগে এমনটা হয়ে থাকে।
কিছু মানুষের এই পরিস্থিতে মাথাও ঘুরতে পারে। সেই সঙ্গে শরীরে ক্লান্তির অনুভূত হতে পারে।
বিনা কারণে শরীরে অস্থিরতা এবং বমি বমি ভাব হার্ট অ্যাটাক আসার আগে সংকেত হতে পারে ।
সংক্ষেপে হার্ট অ্যাটাকের প্রতিকার:
ধূমপান ত্যাগ করতে হবে
অ্যালকোহল অথবা মাদক নেয়া বন্ধ করতে হবে
মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে
ডায়বেটিস ও বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
রক্তের চর্বি অর্থাৎ কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং লবণ কম খেতে হবে।
ডিমের কুসুম, পশুর চর্বি, ঘি, মাখন, দুধের সর, পনির, ডালডা, গরু- খাসীর মাংস ও চিংড়ি মাছ কম খেতে হবে।
ছোট- বড় মাছ ও শাক- সবজি বেশী খেতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত
স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।
অযথা দুশ্চিন্তা না করে ধর্মীয় উপাসনা করতে হবে এবং পরিবারের সবার সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।
হোমিও ঔষধ : Crataegus oxyacantha, Aurum metallicum, Digitalis purpurea, Lachesis mutus, Adonis vernalis, Arnica Montana, Latrodectus mactans, Amylenum nitrosum, Glonoine, Cactus grandiflorus, Convallaria majalis, Vanadium.
লক্ষন অনুযায়ী হোমিও ঔষধ সেবন করুন, সুস্থ থাকুন, জটিল রোগ নিরাময় হবে ইনশা আল্লাহ্ ।
বি:দ্র: অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধই গ্রহণ করা উচিত নয়, হিতের বিপরীত হতে পারে।