Acid Fluor (এসিড ফ্লোরিক)

এসিড ফ্লোরিক ঔষধটির কার্যকারিতা প্রকাশিত হতে কিছুটা সময় লাগে। এটি একটি গভীর কার্যকারী ঔষধ, এন্টি-সোরিক, এন্টি-সিফিলেটিক, এবং এন্টি-সাইকোটিক। এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং এটি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ, ধাতুগত সমস্যার জন্য উপযোগী।
উপদংশ এবং পারদের কারণে সৃষ্ট পুরানো রোগগুলো বিশেষ করে নিম্নাংশের স্নায়ুতে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং শরীরের নিম্ন অংশের স্ফীতি এবং ক্ষতসমূহের ক্ষেত্রে কার্যকর। এটি গভীরভাবে শয্যাক্ষত, ক্ষত, শিরাস্ফীতি ইত্যাদিতে সহায়ক হতে পারে।
রোগীরা সাধারণত চলাফেরা করতে সমস্যায় পড়েন এবং বৃদ্ধ বয়সের উপসর্গ বা অকাল বার্ধক্য, দুর্বলতা এবং রক্তনালী সম্প্রসারণের মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন। এটি মদ্যপান, ঘোড়ার খুরের নাল বা মূত্রপিন্ডের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। গলগন্ড, দাঁতের অকাল পচন, এবং পুরাতন রাতের জ্বরের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর।
এসিড ফ্লোরিক ঔষধটি অস্বাভাবিক উত্তপ্ত রক্তবিশিষ্ট রোগীদের জন্য কার্যকর, তবে এতে শীতলতার অনুভূতি থাকে।
সন্ধ্যা ও রাতে শরীর থেকে প্রচণ্ড উত্তাপ নির্গত হলেও জ্বর দেখা যায় না। ত্বক অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়, রোগী সাধারণত গরম দ্রব্য ও গরম বাতাসে অস্বস্তি অনুভব করে, এবং গরম ঘরে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হয়। সে ঠান্ডা জলে মুখ ও মাথা ধোয়া পছন্দ করে এবং তা স্বস্তিদায়ক মনে করে।
রাতে পায়ের পাতায় জ্বালা হয়, যা শয্যার বাইরের অংশে রাখতে চায়, এবং হাত ও পায়ের পাতার জন্য ঠান্ডা স্থান খোঁজে। ঘাম দুর্গন্ধযুক্ত এবং ক্ষতকারক, পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে ঘাম ক্ষত সৃষ্টি করে।
চোখ, নাসিকা এবং শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে ক্ষতকর স্রাব বের হয়। উত্তাপ থেকে বৃদ্ধি এবং চা-কফির প্রভাবে অজীর্ণতার সমস্যা দেখা দেয়। দাঁড়ালে ও বসলে অসুবিধা হয়, খোলা বাতাসে ভালো থাকে।
এসিড ফ্লোরিক ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ:
- সাধিনতা, আত্মতুষ্টি এবং কর্তৃত্বপূর্ণ স্বভাবের ব্যক্তি।
- সবসময় অত্যন্ত গরম অনুভব করেন এবং ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে ইচ্ছুক।
- অত্যন্ত এনার্জেটিক, অল্প নিদ্রায় সুস্থ থাকতে সক্ষম।
- অত্যধিক যৌন ইচ্ছা ও লম্পটতার প্রবণতা।
- মশলাদার এবং কটুগন্ধযুক্ত খাদ্যে আগ্রহ।
- পুরাতন ক্ষতচিহ্ন লাল হয়ে ওঠে এবং পুনরায় ক্ষতে পরিণত হয়।
- ঝাঁজাল ও ক্ষতকর ঘামের কারণে শরীর চুলকে যায়।
এসিড ফ্লোরিক ঔষধের – মূলকথা:
মন:
- একসময় যারা সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল, তাদের প্রতি উদাসীনতা।
- নিজের দায়িত্ববোধ বুঝতে অক্ষম।
- প্রফুল্লতা এবং মানসিক আনন্দ।
মাথা:
- মাথায় টাক বা চুল পড়ে যাওয়া।
- চামড়ার ক্ষত।
- মাথার দুই পাশে চাপবোধ।
- ম্যাস্টয়েড অস্থির ক্ষত ও প্রচুর স্রাব; উষ্ণতায় বৃদ্ধি, ঠান্ডায় বৃদ্ধি।
- অস্থিবৃদ্ধি।
চোখ:
- মনে হয় চোখের ভিতর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
- অশ্রুস্রাবী গ্রন্থির নলিতে ঘা।
- চোখের ভিতরের কোনে তীব্র চুলকানি।
নাক:
- পুরাতন সর্দিজ অবস্থা এবং নাসারন্ধ্রের ক্ষত।
- নাক বন্ধ ও কপালে মৃদু ভারী বেদনা।
মুখগহ্বর:
- দাঁতের নলিতে ঘা এবং অবিরাম রক্তযুক্ত লবণাক্ত স্রাব।
- গলায় উপদংশ এবং ঠান্ডায় অতিরিক্ত অনুভূতি প্রবণ ক্ষত।
- দাঁত গুলিতে উষ্ণতার অনুভূতি; উপরের চোয়ালের দাঁত ও অস্থিগুলি আক্রান্ত।
পাকস্থলী:
- পাকস্থলীতে ভারী অনুভূতি।
- আহারের পূর্বে পাকস্থলীতে উত্তাপ।
- টক ঢেকুর এবং কফি পানের প্রতি অনিচ্ছা।
- মুখরোচক খাবারের প্রতি আকর্ষণ।
- পাকস্থলীর লক্ষণগুলো কষা জামাকাপড় পরলে উপশম হয়।
- অতিরিক্ত সুস্বাদু খাবারের প্রতি ইচ্ছা; ঠান্ডা জলপানের তীব্র ইচ্ছা।
উদর:
- যকৃত স্থানে টাটানি।
- বায়ুনিঃসরণ ও ঢেকুর।
মল:
- পিত্তযুক্ত উদরাময়; কফি পানে অনিচ্ছা।
পুরুষের রোগ:
- প্রস্রাবনলীতে জ্বলন।
- কামনা ও সঙ্গমেচ্ছার বৃদ্ধি; রাতে ঘুমের মধ্যে লিঙ্গ উত্তেজনা।
- অন্ডকোষের স্ফীতি।
প্রস্রাব:
- অল্প, ঘোলাটে।
- শোথাবস্থায় প্রচুর প্রস্রাব, উপশম বোধ।
স্ত্রীরোগ:
- মাসিক ঋতুস্রাব প্রচুর, বারবার ও দীর্ঘস্থায়ী।
- জরায়ু ও জরায়ু মুখে ক্ষত।
- প্রচুর ও হাজাকর প্রদরস্রাব; কামোন্মত্ততা।
শ্বাস-প্রশ্বাস:
- বুকের ভিতর চাপবোধ ও কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস।
- প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট এবং ফ্লুসফ্লুসের ভিতর জল জমা।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ:
- হাতের আঙ্গুলের সন্ধির প্রদাহ।
- হাতের নখের নীচে গোঁজ ফ্লুটে থাকার মতো অনুভূতি।
- নখ ভঙ্গুর; বড়ো বড়ো অস্থির ক্ষত ও পচন।
- চঞ্চ অস্থির বেদনা; টিবিয়া অস্থির উপর ক্ষত।
চামড়া:
- শিরা স্ফীতি, জড়তা।
- ক্ষতসমূহের কিনারা লাল ও ফোস্কা।
- শয্যাত উষ্ণতা বৃদ্ধি।
- উপদংশজনিত ক্ষত এবং ক্ষতচিহ্নের উপর চুলকানি।
- লোমকূপ থেকে জ্বালাকর বাষ্প বের হওয়া; শরীরের যাবতীয় রন্ধের চুলকানি ও ছোপসমূহ।
- নখ খুব দ্রুত বাড়ে।
- অস্থি আবরকের ফোঁড়া; প্রচুর, টক ও দূর্গন্ধযুক্ত ঘাম।
- উপদংশজনিত গুটি; বৃদ্ধ, দুর্বল ব্যক্তির অঙ্গের শোথ।
- কৈশিক নালী ও শিরাতন্ত্রের শক্তিহীনতা; তন্তুসমূহের স্ফীতি।
কমা-বাড়া-বৃদ্ধি:
- উষ্ণতা, সকালে, গরম পানীয়।
উপশম:
- ঠান্ডায়, ভ্রমণকালে।
সম্বন্ধ-তুলনীয়:
- থিয়োসাইনামাইনাম (ক্ষতস্থান জোড়া দেওয়ার তন্তুর ওপর কাজ করে; জোড়া দেওয়া, সংকীর্ণতা, ষ্ট্রিকচার, অর্বুদ)
পরিপূরক:
- সিলিকা
শক্তি: ৬ষ্ঠ থেকে ৩০ শক্তি।
বিঃ দ্রঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।
( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )