Abrotanum (অ্যাব্রোটেনাম)
আর্টমিসিয়া এব্রোটেনাম (Artemesia abrofanum)
সাউদার্ন উড (Southern wood).
কম্পোজিটি জাতীয় এক প্রকার গুল্ম। এর সরস পাতা থেকে মূল অরিষ্ট তৈরী হয়।
এই মহামূল্য ঔষধটির ব্যবহার আরও বাড়ানো উচিত। যেমন ব্রায়োনিয়া এবং ‘রাস টক্স’ দ্বারা আরোগ্য হওয়া অবস্থায় এটি উপকারী; তবে লক্ষণের সাদৃশ্য থাকলেও এর প্রয়োগক্ষেত্র আলাদা। উদরাময়ের ইতিহাস সহ হৃৎপিন্ডের উপদাহ সংযুক্ত বাতরোগ, নাসাপথে রক্তস্রাব, রক্তমূত্র, উৎকণ্ঠা ও কম্পনের ক্ষেত্রে এব্রোটেনাম প্রয়োজন। আকস্মিক উদরাময়ের চাপা পড়া লক্ষণে এটি কার্যকর। শিশুর উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতায় এটি বিশেষ উপকারে আসে, এবং সাধারণ ঠান্ডা বাতাস ও ঠান্ডা ভিজা আবহাওয়ায় সহ্য করতে পারে না।
শিশুদের শীর্ণতা রোগে একটি বহুল ব্যবহৃত ঔষধ, বিশেষ করে যখন শরীরের নিম্নাঙ্গে শীর্ণতা থাকে যদিও প্রচুর ক্ষুধা থাকে। এটি উদরাময় চাপা পড়ার পর বাত রোগের ক্ষেত্রে উপকারী। যেকোনো রোগ চাপা পড়ার ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, বিশেষত গেঁটে বাত রোগগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি কার্যকর। টিউবারকিউলাস পেরিটোনাইটিস, রসযুক্ত প্লুরিসি এবং বুকের অস্ত্রোপচারের পর বুকের ভিতরে চাপ দেওয়ার মতো অনুভূতির ক্ষেত্রেও উপকারী। বালকদের নাক দিয়ে রক্তস্রাব ও হাইড্রোসিলের জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়।
এব্রোটেনাম ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ:
- কোনো বিষয়ে বুঝার ক্ষমতা কম, অত্যন্ত খিটখিটে ও নিষ্ঠুর।
- দেখতে বুড়োর মতো, পেট ফোলা, নিম্নাংশ বিশেষত পা দুটো শুষ্ক।
- পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও বাত দেখা দেয়, উদরাময়ে অজীর্ণ মল বের হয়।
- পাকস্থলীতে এমন অনুভূতি থাকে যেন এটি ঝুলে আছে অথবা পানির ওপর ভাসছে।
- ব্যথাযুক্ত প্রদাহ দেখা দেয়, বিশেষ করে বাতে ফুলে ওঠার পূর্বেই আক্রান্ত স্থানে ব্যথা অনুভূত হয়।
- রোগান্তর ঘটে, যেমন উদরাময়ের দমনের ফলে বাত বা গেঁটেবাতের দমনের ফলে হৃদরোগ।
এব্রোটেনাম ঔষধের – মূলকথা:
মন: রুক্ষ, খিটখিটে, আতঙ্কগ্রস্ত এবং হতাশ।
মুখমণ্ডল: কোঁচকানো, ঠাণ্ডা, শুষ্ক এবং ফ্যাকাশে। চোখের চারপাশে গোলাকার নীলচে দাগ এবং ম্লান চক্ষু। নাক থেকে রক্ত স্রাব হতে পারে এবং মুখমণ্ডলে রক্তবহা নাড়ীর অর্বুদ দেখা যায়।
পাকস্থলী: মুখের স্বাদ আঠালো ও পিচ্ছিল। প্রচুর ক্ষুধা সত্ত্বেও শীর্ণতা দেখা যায়। পায়খানার সঙ্গে হজম না হওয়া গোটা গোটা খাবার বের হয়। পাকস্থলীর যন্ত্রণা রাত্রে বৃদ্ধি পায় এবং পাকস্থলীতে কেটে ফেলার মতো যন্ত্রণা অনুভূত হয়। রোগী মনে করে পাকস্থলিটি যেন জলের উপর ভাসছে এবং ঠাণ্ডা বলে মনে হয়। যন্ত্রণাদায়ক ক্ষুধা ও ঘ্যানঘ্যানে ভাব। বদহজম এবং বমির সঙ্গে প্রচুর দূর্গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ ওঠে।
উদর: পেটে শক্ত ঢেলা, পেট ফাঁপা, ক্রমান্বয়ে উদরাময় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। অর্শ বারে বারে বেগ, রক্তযুক্ত মল; বাতের বেদনা কথার সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। বড়ো কৃমি এবং নাভি থেকে রসানি অনুভূতি। অন্ত্র নিচের দিকে নেমে আসার মতো অনুভূতি।
শ্বাস-প্রশ্বাস: হাজাকর অনুভূতি, বাধাপ্রাপ্ত শ্বাস-প্রশ্বাস। উদরাময়ের পর শুষ্ক কাশি এবং বুকের উপর দিয়ে যন্ত্রণা, হৃদপিণ্ডের স্থানে প্রচণ্ড চাপ।
পিঠ: ঘাড় এত দুর্বল যে মাথা তুলতে কষ্ট। পিঠে খোঁড়া ভাব, দুর্বলতা ও যন্ত্রণা। কোমর স্থানে বেদনা, যা চক্ষু পর্যন্ত প্রসারিত হয়। ত্রিকাস্থি স্থানে বেদনা এবং অর্শ।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ: ঘাড়, বাহু, কনুই ও গোড়ালিতে বেদনা। পায়ের পাতায় এবং হাতের আঙ্গুলে খোঁচা মারার মতো ও শীতল অনুভূতি। পা দুটির অতিরিক্ত শীর্ণতা এবং সন্ধিস্থান নিষ্ক্রিয় ও আড়ষ্ট। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেদনাদায়ক সংকোচন (অ্যামোন মিউর)।
চামড়া: মুখমণ্ডলে উদ্ভেদ; উদ্ভেদ চাপা পড়লে চামড়া বেগুনি হয়ে যায়। চামড়া থলথলে ও ঝুলে পড়ে। ছোট ছোট ফোঁড়া, মাথার চুল পড়া এবং চুলকানি যুক্ত শীতস্ফোটক হতে পারে।
কমাবাড়া: ঠাণ্ডা বাতাসে বৃদ্ধি ও স্রাব চাপা পড়লে। কমা ও নড়াচড়া করলে।
তুলনীয় ঔষধ: স্ক্রফিউলাসিয়া, ব্রায়োনিয়া, স্টেলারিয়া, বেজেটিক অ্যাসিড, বাতে, আয়োডিন, নেট্টাম মিউর, শীর্ণতা রোগে।
শক্তি: ৩য় থেকে ৩০।
বিঃ দ্রঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।
( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )