Breaking News

আর্নিকা মন্ট

Arnica Mont (আর্নিকা মন্ট)

আর্নিকা মন্টানা, যা সাধারণত চিতাবাঘের বাণ নামে পরিচিত, ইউরোপীয় উদ্ভিদ। এটি মূলত উত্তর আমেরিকায় চাষ করা হয়। ‘আর্নিকা’ নামটি ল্যাটিন শব্দ ‘আর্নিকাস’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘ল্যাম্বস্কিন’, উদ্ভিদের পশমের মতো পাতার জন্য। আর্নিকা মন্টানা ড্রাগটি উদ্ভিদের শিকড় থেকে প্রস্তুত করা হয়।

শরীরের উপর আঘাতের ফলে যেমন পড়ে যাওয়া বা থেঁতলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, এই ঔষধ সেগুলোর মতোই লক্ষণ তৈরি করে। এতে কানের ভিতর ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনা যেতে পারে। এটি পচন প্রক্রিয়া, বিষাক্ত বা সেপটিক অবস্থার, এবং পুঁজের রোগ সংক্রমণের প্রতিষেধক। মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া, এবং লাল বর্ণের লক্ষণও এতে দেখা যেতে পারে।

আর্নিকা মন্ট ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ:

  • বেদনা — আঘাতজনিত বেদনা, রোগজনিত বেদনা, এবং যে কোন ধরনের বেদনা।
  • স্পর্শকাতরতা ও অস্থিরতা — বিছানার শক্ত অনুভূতি হলেও অন্যান্য কষ্টের বিষয়ে রোগী ভালো বলে মনে করে।
  • সজ্ঞানে প্রলাপ ও আতঙ্ক — সজ্ঞানে প্রলাপ বকা ও আতঙ্কের অনুভূতি।
  • আঘাত ও চোট — তরুণ বা পুরাতন আঘাত, পতন, চাপা লেগে থেঁতলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ঔষধ সবচেয়ে উপযোগী।
  • কালশিরা ও রক্তপাত — শরীরে চোট লেগে কালশিরা পড়া, আঘাতজনিত রক্তপাত।
  • সম্পূর্ণ শরীরে ব্যথা — শরীরের সমস্ত অংশে অত্যন্ত ব্যথা, স্পর্শভীতি, কেউ স্পর্শ করলেই সমস্যা হয়, বিছানার শক্ত অনুভূতি।
  • মস্তক ও মুখমণ্ডল গরম — মাথা ও মুখ গরম হলেও শরীরের অন্যান্য অংশ শীতল।
  • অচৈতন্য ও অস্বাভাবিক শৌচ — অচৈতন্য অবস্থায় অসাড়ে মল-মূত্র ত্যাগ, কথার উত্তর দিতে দিতে পুনরায় অচৈতন্য হয়ে যাওয়া।
  • জরায়ু অঞ্চলের ব্যথা — জরায়ু অঞ্চলে চোট লাগার মত ব্যথা, রোগী সোজা হয়ে চলতে অক্ষম।

 

আর্নিকা মন্ট ঔষধেরমূলকথা:

মন — স্পর্শের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা অথবা অন্য কেউ কাছে আসলে ভয় পাওয়া। অচৈতন্য অবস্থায় থাকা; যখন কথার উত্তর দেয়, তখন সঠিকভাবে উত্তর দেয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার অচৈতন্য হয়ে যায়।

উদাসীনতা, একটানা কোন কাজ করতে অক্ষমতা, বিষন্নতা, প্রলাপ বকায়, স্নায়বিক সমস্যা, যন্ত্রণা সহ্য করতে অক্ষমতা, সারা শরীর অত্যধিক স্পর্শকাতর।

রোগী বলে যে তার সম্পর্কে চিন্তা করার কিছু নেই। একা থাকতে চায়, উন্মুক্ত স্থান সম্পর্কে ভয়। মানসিক আঘাতের পর।

মাথা — মাথা গরম, শরীর ঠাণ্ডা, বিভ্রান্তি, মস্তিষ্কে অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা, তীক্ষ্ণ বা চিমটি কাটার মত ব্যথা।

মাথার চামড়ার সংকোচনের অনুভূতি। কপালের নির্দিষ্ট অংশে ঠাণ্ডা অনুভূতি। পুরাতন মাথাঘোরা, বস্তুগুলো চারপাশে ঘুরছে মনে হয়, বিশেষ করে হাঁটাচলা করার সময়।

চোখ — আঘাতের কারণে দৃষ্টির ঝাপসা হওয়া, পেশীর পক্ষাঘাত, রেটিনা থেকে রক্তপাত। চোখের ভেতর টাটানি, থেঁতলানোর মত অনুভূতি।

 চোখ খুলে রাখতে বাধ্য হওয়া, চোখ বন্ধ করলে মাথা ঘোরানো। দৃশ্য দেখার বা চলন্ত ছবি দেখার পর পরিশ্রান্তি ও ক্লান্তি।

কান — কানে শব্দ শুনা, যা মস্তিষ্কে দ্রুত রক্ত সঞ্চালনের কারণে হতে পারে। কানের ভিতর এবং চারপাশে তীক্ষ্ণ ব্যথা। কান থেকে রক্তপাত। মাথায় আঘাত লাগার পর কান কম শুনে। কানের তরুণাস্থির ব্যথা, মনে হয় সেই অংশ থেঁতলানো।

নাক — কাশির পর নাক দিয়ে রক্তপাত, কালচে তরল রক্ত। নাকে টাটানি। ব্যথা, নাক ঠাণ্ডা মনে হয়।

মুখগহ্বর — দূর্গন্ধযুক্ত শ্বাস-প্রশ্বাস, শুষ্ক ও তৃষ্ণার্ত, স্বাদ তিক্ত (কলোসিন্থ)। পচা ডিমের মত স্বাদ। দাঁত তোলার পর মাড়ীতে টাটানি (সিপিয়া)। ম্যাক্সিল্যারি সাইনাসে পুঁজ।

মুখমণ্ডল — গাঢ় লাল, উজ্জ্বল লাল। ঠোঁট উষ্ণ। মুখমণ্ডলে হার্পিস।

পাকস্থলী — ভিনিগার খাওয়ার ইচ্ছা, দুধ ও মাংসে বিরক্তি, প্রচণ্ড ক্ষুধা, রক্ত বমি। খাবার সময় পাকস্থলীতে ব্যথা। পেট ভরা মনে হয় এবং খাদ্যের প্রতি অরুচি।

 পেটের ভিতরে গ্যাসের চাপ, পাথরের মত ভারী মনে হয়। পাকস্থলী মেরুদণ্ডের পাশে চলে গেছে মনে হয়। দুর্গন্ধযুক্ত বমি।

উদর —পাঁজরের নীচে ব্যথা। পেটের ভিতরে গ্যাস জমা হওয়ার কারণে উদর স্ফীতি। পেটের ভিতরে তীক্ষ্ণ গুঁতো মারার মত অনুভূতি।

মল — উদরাময়ে জোরে কোঁথ দিতে হয়। মল দুর্গন্ধযুক্ত, বাদামি, রক্তমিশ্রিত, পচা, অসাড়ে নির্গত হয়। বাদামি রঙের ইষ্টের মত দেখা যায়।

মলত্যাগের পর রোগী শুয়ে পড়তে বাধ্য হয়। ক্ষয় রোগে উদরাময়, বামদিকে শুলে বৃদ্ধি। আমাশয়ের মত মল, পেশীর ব্যথা।

প্রস্রাব — অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর প্রস্রাবে অবরোধ। প্রস্রাবে কালচে, ইটের মত লাল রঙের তলানি থাকে। প্রস্রাব থলিতে কোঁথের অনুভূতি এবং তীব্র যন্ত্রণাদায়ক প্রস্রাব।

স্ত্রীরোগ — প্রসবের পর প্রসব সম্পর্কিত অঙ্গে থেঁতলানোর মত অনুভূতি, প্রসবের পর তীব্র ব্যথা। সঙ্গমের পর আঘাতজনিত কারণে জরায়ু থেকে রক্তপাত।

স্তনের বোঁটায় টাটানি ব্যথা। আঘাত লাগার পর স্তনের প্রদাহ। মনে হয় গর্ভস্থ সন্তান আড়াআড়িভাবে রয়েছে।

শ্বাস-প্রশ্বাস — হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য কাশি, মাঝে মাঝে কাশি, রাতে, ঘুমের মধ্যে, পরিশ্রমের পর বৃদ্ধি।

টনসিলের তরুণ প্রদাহ, তালুর কোমল অংশ ও আলজিহ্বার স্ফীতি। নিউমোনিয়া, ফুসফুসে পক্ষাঘাতের উপক্রম।

কণ্ঠস্বরের অতিরিক্ত ব্যবহারে স্বরভঙ্গ। সকালে কণ্ঠনলীতে টাটানি ব্যথা, হাজাকর অনুভূতি। কাঁদলে কাশি হয়। শুষ্ক কাশি, বায়ুনলীর নিম্নাংশে সুড়সুড়ি।

রক্তমিশ্রিত কফ ওঠে। বুকের সমস্ত অস্থি ও তরুণাস্থিতে ব্যথা। তীব্র আক্ষেপিক কাশি, মুখমণ্ডলে হার্পিসের মত উদ্ভেদ। হুপিং কাশি, শিশুর কাশির পূর্বে কাঁদে। পাঁজরের অস্থিতে ব্যথা ।

হৃদপিণ্ড — হৃদমূল বা অ্যাঞ্জিনা পেক্টোরিস, বাম কনুই স্থানে খুব বেশি যন্ত্রণা হয়। হৃদপিণ্ডে সূঁচ ফোটানোর মত ব্যথা।

নাড়ীর দুর্বলতা ও অনিয়মিতা। হৃদপিণ্ডের শোথ এবং কষ্টকর শ্বাসকষ্ট। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রসারিত, থেঁতলানো ও টাটানি ব্যথা অনুভূত হয়। মেদযুক্ত হৃদপিণ্ড ও হৃদপিণ্ডের বৃদ্ধি।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ — গেঁটে বাত, স্পর্শ পাওয়ার প্রতি তীব্র ভীতি অথবা কারও কাছ থেকে ভীতি। পিঠে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে থেঁতলানোর মত বা মারার মত ব্যথা।

মুচকিয়ে যাওয়ার বা সন্ধির স্থানচ্যুতির মত অনুভূতি। অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর টাটানি ব্যথা। রোগী যে কোন কিছুতে শুয়ে থাকলে শক্ত মনে হয়।

বহুমৃতের মত ঠাণ্ডা হয়ে খাড়াভাবে হাঁটতে পারে না, কারণ অস্তিকোটর স্থানে থেঁতলানোর মত ব্যথা। বাত নীচের দিক থেকে শুরু হয়ে উপরের দিকে উঠে (লিডাম)।

চামড়া — কালো ও নীল বর্ণ, চুলকানি, জ্বালাকর ছোট ছোট উদ্ভেদ। একসাথে অনেক ছোট ছোট ফোঁড়া হয় (ইকথাইওল, সাইনিসিয়া)। কালশিরা, শয্যাক্ষত (স্থানিকভাবে বোভিনাইন)। শক্ত জতীয় ব্রণ, খুব সুন্দরভাবে বিস্তৃত।

ঘুম — অতিরিক্ত ক্লান্তিতে অনিদ্রা ও অস্থিরতা। আচ্ছন্নগ্রস্ত, নিদ্রালুতা, মাথা গরম হলে জেগে ওঠা। মৃত্যু বা কাটা অঙ্গ সম্পর্কিত স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন দেখার পর আতঙ্কিত ও ভীত হওয়া। রাতে ভয়াবহ আতঙ্ক, ঘুমের মধ্যে অসাড়ে মলত্যাগ।

জ্বর — জ্বরের লক্ষণগুলো টাইফয়েডের লক্ষণের মত। শরীরের সমস্ত অংশে কম্পন। মাথা গরম ও লাল, শরীরের অন্যান্য অংশ শীতল। শরীরের ভিতরে গরম অনুভূতি। পা ও হাত ঠাণ্ডা। রাতে টকগন্ধযুক্ত ঘাম।

কমাবাড়া —নড়াচড়ার বিশ্রামে, মদ্যপানে, আর্দ্র আবহাওয়ায় এবং সামান্য স্পর্শে বৃদ্ধি।

উপশম — শুয়ে থাকলে অথবা মাথা নিচু করে রাখলে।

সম্বন্ধ — দোষঘ্ন:- ক্যাম্ফর।

পরিপূরক — একোন, ইপিকাক।

তুলনীয় — একোন, ব্যাপ্টি, রাস, হাইপেরিকাম।

শক্তি — ৩য় থেকে ৩০ শক্তি।

বিঃ দ্রঃ  হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য  হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।

( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>