Breaking News

এসিড ফস

Acid Phos (এসিড ফস)

এসিড ফস সাধরনত ফসফরিক এসিড এবং অর্থোফসফোরিক এসিড নামেও পরিচিত।

এসিড ফস ঔষধ স্নায়বিক ক্লান্তি, মানসিক দুর্বলতা, উদাসীনতার জন্য ব্যাবহার হয়। যৌন দুর্বলতার এবং শারীরিক দুর্বলতার জন্য দুর্দান্ত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ।

ঔষধটি চুল পড়া, তন্দ্রা জন্যও ব্যবহৃত হয়। পাইরোসিস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, ডায়াবেটিস, টাইফয়েডে রক্তক্ষরণ এবং ক্যানসারের ব্যথা উপশমে উপকারী।

ফসফরিক এসিডের চরিত্রগত লক্ষণ:

  • নিদ্রালুতা উদাসীনতা: চারপাশে যা ঘটছে তা সম্পর্কে জ্ঞানশূন্যতা থাকে, কিন্তু জাগালে সম্পূর্ণ সচেতনতা লাভ হয়।
  • চুলের সাদা হওয়া নিরাশা: পুরাতন শশাকের ফলস্বরূপ চুল সাদা হয়ে যায়, মুখ ও চোখ বসে যায়, এবং সাধারণ চেহারা মুছে যায়।
  • হাড়ের বেদনা: অতি দ্রুত বর্ধনশীল ও লম্বাকৃতি তরুণ-তরুণীর হাড়ে বেদনা অনুভূত হয়।
  • দুর্বলতা: হস্তমৈথুন বা অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবাজনিত ও ডিম্বাশয় সংক্রান্ত শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা।
  • উদরাময়: সাদা, জলীয়, বেদনাশূন্য উদরাময়, গড় গড় শব্দ সহ উদরে বায়ু সঞ্চয়; তবে রোগী অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করে না।
  • মূত্রপাত: প্রচুর পরিমাণে জলীয় বা দুধের মতো মূত্রপাত।
  • উপশমের কারণ: দুঃসংবাদ, অবসাদ, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন, বায়ু প্রবাহ, প্রবল বাতাস, তুষারপূর্ণ শীতল বায়ু; স্বল্প নিদ্রার পরে উপশম।
  • শিরঃপীড়া: চোখের অতিরিক্ত সঞ্চালন বা ব্যবহারজনিত, বিশেষ করে বিদ্যালয়ের বালিকাদের মাথার পিছনের দিকে শিরঃপীড়া।

 

ফসফরিক এসিড ঔষধের – মূলকথা

মন :  মন কিছুতেই একাগ্র হতে পারে না এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল (এনাকার্ডিয়াম)।সে সমবেদনা অনুভব করতে পারে না এবং প্রায়ই উদাসীন থাকে। চিন্তা-ভাবনা সঠিকভাবে সংগঠিত করতে বা সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে তার সমস্যা হয়। কিছু বোঝার ক্ষেত্রেও তাকে কষ্ট সহ্য করতে হয়। দুঃখ এবং মানসিক আঘাতের নেতিবাচক প্রভাব তার ওপর পড়ে। তার মাঝে প্রলাপ বকতে দেখা যায় এবং অতিরিক্ত মাত্রায় বিহ্বলতা দেখা দেয়। হতাশা তার মধ্যে গেঁথে গেছে।

মাথা : মাথার বেদনা ভারী এবং বিভ্রান্তিকর; মনে হয় যেন দুটি রোগ  একসঙ্গে পেষা হচ্ছে। মাথা নাড়ালে অথবা শব্দ হলে বেদনা বৃদ্ধি পায়। এধরনের বেদনা এতটাই তীব্র যে মনে হয় মাথা ফেটে যাবে। মাথার ওপর চাপের অনুভূতি থাকে। জীবনের প্রথমভাগেই মাথার চুলগুলি ধূসর হতে শুরু করে এবং চুল পড়ে যায়। সঙ্গমের পর বা চোখের অতিরিক্ত পরিশ্রমের পরে মৃদু মাথাব্যথা অনুভূত হয় (নেট্রাম মিউর)। সন্ধ্যার দিকে মাথা ঘোরানো অনুভূতি হয়, বিশেষ করে বসে থাকলে অথবা হাঁটার সময়। চুল পাতলা হয়ে যায় এবং অকালেই চুল পেকে যায়।

চোখ : চোখের চারপাশে নীলবর্ণের গোলাকার দাগ দেখা যায়। চোখের পাতা প্রদাহিত এবং ঠাণ্ডা থাকে। চোখের তারা প্রসারিত এবং চকৰ্চক করতে থাকে। সূর্যালোকের প্রতি বিরক্তি অনুভূত হয় এবং রামধনুর মতো রঙ দেখতে পারে। চোখগুলি অতিরিক্ত বড় মনে হয়। হস্তমৈথুনকারীদের দৃষ্টি অস্বচ্ছ থাকে এবং চক্ষু সংক্রান্ত স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। বেদনা এমন অনুভূতি দেয়, যেন চোখের তারাগুলিকে একে অপরের সঙ্গে খুব জোরে চেপে ধরা হয়েছে এবং মাথার ভেতরেও চাপ অনুভূত হয়।

কান :  কানের ভিতরে গর্জন শোনা যায়, এবং শুনতে কষ্ট হয়। শব্দ সহ্য করা কঠিন মনে হয়। নাক দিয়ে রক্ত পড়ে এবং নাকের ভিতরে আঙ্গুল দিয়ে খোঁটাখুঁটি করে চুলকায়।

মুখগহ্বর :  ঠোঁটগুলি শুষ্ক এবং ফাটা। মাঢ়ী থেকে রক্তপাত হয় এবং মাঢ়ীগুলি দাঁত থেকে সরে যায়। জিহ্বা স্ফীত, শুষ্ক এবং চটচটে, সঙ্গে ফেনাযুক্ত শ্লেষ্মা দেখা যায়। দাঁতগুলিতে শীতলতার অনুভূতি থাকে। রাতে, অসাড় অবস্থায় জিহ্বা কামড়িয়ে ফেলে।

মুখমন্ডল : মুখমণ্ডলের একদিকে শীতলতার অনুভূতি হয়, এবং এমন এক ধরনের টানভাব অনুভূত হয় যা ফ্যাকাশে, মাটির মতো, শুষ্ক অ্যালবিউমিন লেগে থাকার মতো মনে হয়।

পাকস্থলী : রসযুক্ত কোনো বস্তুর প্রতি প্রতিস্পৃহা থাকে। টক ঢেকুর এবং বমি বমি ভাব অনুভূত হয়। টক খাদ্য বা পানীয় গ্রহণের পর এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়। আহারের পরে পাকস্থলীতে ভারী বোধ এবং নিদ্রালুতা অনুভূত হয় । ঠাণ্ডা দুধ পান করার জন্য তৃষ্ণা অনুভূত হয়।

উদর :  অন্ত্রের ভিতরের স্ফীতি এবং গেঁজিয়ে ওঠা অনুভূত হয়। প্লীহার বৃদ্ধি (সিয়েনোথাস) ঘটে এবং নাভিপ্রদেশে কণি অনুভূত হয়। পেটের ভিতরে জোরে জোরে শব্দ হয়। 

মল : উদরাময়, সাদা এবং জলীয়, এমনকি অসাড় বেদনা ও প্রচুর বায়ু নিঃসরণের সাথে সাথেই এটি ঘটে; তবে উদরাময়ের কারণে রোগী বিশেষভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে না। এটি সাধারণত দুর্বল, রোগা, রিকেট রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।

প্রস্রাব : বারবার, প্রচুর পরিমাণে, জলীয় এবং দুধের মতো প্রস্রাব হওয়া; এটি সাধারণত ডায়াবেটিসের লক্ষণ। প্রস্রাবের আগে উদ্বেগ এবং পরে জ্বালা অনুভূতি দেখা যায়। রাতে বারবার প্রস্রাবের তাগিদ অনুভূত হয় এবং প্রস্রাবে ফসফেটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পুরুষের রোগ : রাতে এবং মলত্যাগের সময় বীর্যপাত হওয়া; শুক্রাধারায় প্রদাহ (অক্সজ্যালিক অ্যাসিড) দেখা যায়। যৌনশক্তির অসম্পূর্ণতা এবং অন্ডদ্বয়ের স্পর্শকাতরতা ও স্ফীতি লক্ষ্য করা যায়। সঙ্গমের সময় ইন্দ্রিয়ের শিথিলতা (নাক্সভমিকা) অনুভূত হতে পারে। প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে রস নিঃসরণের পাশাপাশি নরম মলত্যাগের সময়ও এটি ঘটতে পারে। অন্ডকোষে একজিমা, লিঙ্গাচর্মের সোথ এবং লিঙ্গ মুন্ডের স্ফীতি দেখা যায়। দাদের মতো উদ্ভেদ এবং সাইকোটিক জাতীয় উপমাংস (থুজা) উপস্থিত থাকতে পারে।

স্ত্রীরোগ :  মাসিক ঋতুস্রাব নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শুরু হয়ে প্রচুর পরিমাণে ঘটে, এবং এতে যকৃতে বেদনা অনুভূত হয়। ঋতুস্রাবের পরে হলুদবর্ণের প্রদর স্রাব হতে পারে এবং চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। স্তন্যপান করার সময় দুধের পরিমাণ কমে যাওয়ায় শিশুর স্বাস্থ্যে সমস্যা হতে পারে।

শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রসমূহ: মস্তিষ্কের বিকারের পর বুকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে স্বরভঙ্গ অন্তর্ভুক্ত। বুকের ভিতরে সুড়সুড়ি অনুভূতির পর শুষ্ক কাশির উদ্ভব ঘটে এবং লবণাক্ত শ্লেষ্মা উঠে। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট অনুভূত হয় এবং কথা বলার সময় দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে (স্ট্যানাম)। বৃক্কস্থির পিছনের অংশে চাপ অনুভূতি শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট বাড়াতে পারে।

হৃদপিন্ড : যে সকল শিশুরা খুব দ্রুত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখায়, তাদের হৃৎস্পন্দন এবং নাড়ীর গতি অনিয়মিত হতে পারে, বিশেষ করে শোক বা দুঃখের সময় অথবা হস্তমৈথুনের পর। নাড়ী থেমে থেমে চলতে পারে এবং অনিয়মিত হতে পারে।

পিঠ : দুটি স্কন্ধাস্থির মধ্যবর্তী স্থানে ছিদ্র করার মতো বেদনা অনুভূত হতে পারে। পিঠ এবং অন্যান্য অঙ্গসমূহেও বেদনা অনুভূত হয়, যা মনে হয় যেন মারাত্মক আঘাত লেগেছে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ :  দুর্বলতা অনুভূত হয়, বিশেষ করে সন্ধিসমূহ, অস্থিসমূহ এবং অস্থি আবরকের ভিতরে ছিড়ে ফেলার মতো বেদনা দেখা দেয়। বাহুর উপরের অংশ ও কজিগুলিতে খিলধরা অনুভূতি হতে পারে। প্রচন্ড দুর্বলতা অনুভূত হয় এবং রাতে বেদনা এতটাই তীব্র হতে পারে যেন মনে হয় অস্থিগুলি চাঁচা হচ্ছে। রোগী সহজেই হাঁটতে পারে কিন্তু ভুলভাবে পা ফেলে। এছাড়া, চুলকানি অনুভূত হতে পারে দুটি আঙ্গুলের মধ্যবর্তী স্থানে অথবা সন্ধির ভাঁজে।

চামড়া : ফুস্কুড়ি, ব্রণ, এবং রক্তপূর্ণ স্ফোটক দেখা যায়, সাথে সাথে ক্ষত এবং অতি দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজের উপস্থিতি থাকতে পারে। জ্বালাকর লালচে উদ্ভেদ দেখা যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে সুড়সুড়ির অনুভূতি অনুভূত হতে পারে। মাথায় চুল পড়ে যাওয়া (নেট্রাম মিউর, সেলেনিয়াম) এবং জ্বরের পরে ফোঁড়া হওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

ঘুম: নিদ্রালুতা, কামুক স্বপ্ন এবং বীর্যপাতের সমস্যা থাকতে পারে।

জ্বর: শীতভাবের সাথে প্রচুর ঘাম হয় রাতে ও সকালে। জ্বরের পরিমাণ কম, এবং বোধ শক্তি নিস্তেজ ও আচ্ছন্ন থাকে।

কমাবাড়াউপশম: শরীর গরম রাখলে উপশম হতে পারে।

বৃদ্ধি: এসিড ফস রোগীর সঙ্গে কথা বলার পর, পরিশ্রমের ফলে জৈবিক তরল পদার্থের অপচয় হতে পারে, এবং অতিরিক্ত যৌনসম্ভোগের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটে।

সম্বন্ধ: তুলনীয় ঔষধগুলির মধ্যে চায়না, নাক্সভমিকা, পিক্রিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং ফসফরাস উল্লেখযোগ্য।

শক্তি: ১ম শক্তি।

বিঃ দ্রঃ  হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য  হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।

( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>