ডায়াবেটিস কী?

বর্তমানে ডায়াবেটিস একটি বেশ পরিচিত শব্দ।
ডায়াবেটিস (যা ডায়াবেটিস মেলাইটাস নামেও পরিচিত) হলো একটি গুরুতর, দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা যেটি ঘটে যখন রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা দীর্ঘসময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কারণ হয় শরীর যথেষ্ট পরিমাণে বা কোনো ইনসুলিন উৎপাদন করে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
অর্থাৎ, ডায়াবেটিস হল একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যের অবস্থা যা আপনার খাবারকে শক্তিতে পরিণত করেতে প্রভাবিত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই রোগের অত্যধিক বিস্তারের কারণেই একটি মহামারি রোগ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
ডায়াবেটিস আক্রান্ত কিভাবে হয় ?
যখন আমরা কার্বোহাইড্রেট বা সাধারণ শর্করাজাতীয় খাবার খাই, তখন তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ইনসুলিন হচ্ছে একধরনের হরমোন। এর কাজ হলো এই গ্লুকোজকে মানুষের দেহের কোষগুলোয় পৌঁছে দেওয়া। এরপর সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে শরীরের কোষগুলো শক্তি উৎপাদন করে। সেই শক্তি দিয়েই মানুষ কাজকর্ম করে । সুতরাং যখন এই গ্লুকোজ শরীরের কোষে পৌঁছাবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হবে।
যখন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়, তখন ওই মানুষের শরীরে ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। ফলে দেহের কোষে গ্লুকোজ পৌঁছাতে পারে না। এতে করে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। সাধারণত প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীর ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। যখন প্রস্রাব বেশি হয়, তখন ডায়াবেটিসে ভোগা রোগী তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার রোগীর শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ বের হয়। এতে করে কোষগুলো প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে পারে না দেহের । ফলে রোগী দুর্বলতা অনুভব করেন। রোগী যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে তার রক্তনালি, স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস এর লক্ষন
আপনার যদি নিম্নলিখিত উপসর্গ থাকে তবে আপনার রক্তে শর্করা পরীক্ষা করার বিষয়ে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন :-
১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া , প্রায়ই রাতে
২. খুব তৃষ্ণার্ত
৩. নিয়মিত খাওয়ার পরও ঘন ঘন খিদে
৪. প্রচণ্ড পরিশ্রান্ত অনুভব করা
৫. চোখে ঝাপসা দেখা
৬. শরীরের বিভিন্ন অংশের কাটাছেঁড়া সহজে সারে না
৭. খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
৮. হাতে-পায়ে ব্যথা বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া
৯. ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যাওয়া
১০. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংক্রমণ
Type-1 ডায়াবেটিসের লক্ষণ
যাদের Type-1 ডায়াবেটিস আছে তাদেরও বমি বমি ভাব, বমি বা পেটে ব্যথা হতে পারে। Type-1 ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে বিকাশ লাভ করতে পারে এবং এটি গুরুতর হতে পারে। Type-1 ডায়াবেটিস সাধারণত শুরু হয় যখন আপনি একটি শিশু, কিশোর বা অল্প বয়স্ক হন তবে যেকোনো বয়সে হতে পারে।
Type- 2 ডায়াবেটিসের লক্ষণ
Type- 2 ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি বিকাশ হতে প্রায়শই কয়েক বছর সময় নেয়। কিছু মানুষ কোনো লক্ষণই লক্ষ্য করে না। Type- 2 ডায়াবেটিস সাধারণত শুরু হয় যখন আপনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক হন, যদিও আরও বেশি সংখ্যক শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা এটি বিকাশ করছে। যেহেতু লক্ষণগুলি চিহ্নিত করা কঠিন, তাই Type- 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কারণগুলি জানা গুরুত্বপূর্ণ৷ আপনার যদি সেগুলির মধ্যে কোনও থাকে তবে আপনার ডাক্তারের কাছে যেতে ভুলবেন না।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের লক্ষণ
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস) সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। আপনি যদি গর্ভবতী হন, গর্ভাবস্থার 24 থেকে 28 সপ্তাহের মধ্যে আপনার ডাক্তারের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের জন্য আপনাকে পরীক্ষা করা উচিত।
ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে বহুমূত্ররোগ নির্ণয় করা হয়। ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সকল ব্যক্তির ডায়াবেটিসের জন্য পরীক্ষা করা উচিত।
কিছু ক্ষেত্রে অল্পবয়সিদেরও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় আনা উচিত। যেমন মোটা ব্যক্তি, প্রথম স্তরের আত্মীয় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন গোষ্ঠীর সদস্য, ৯ পাউন্ড বা ৪ কেজির বেশি ওজন বিশিষ্ট বাচ্চা প্রসবকারী অথবা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছিল এমন, উচ্চ রক্তচাপ আছে অথবা পূর্ববর্তী পরীক্ষায় প্রিডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল এমন ব্যক্তি।
WHO এর মতে ডায়াবেটিস রোগনির্ণয় |
||||
| অবস্থা | গ্লুকোজ পানের ২ ঘণ্টা পর | অভুক্তাবস্থায় গ্লুকোজ | HbA1c | |
| একক | mmol/l(mg/dl) | mmol/l(mg/dl) | mmol/mol | DCCT % |
| স্বাভাবিক | <৭.৮ (<১৪০) | <৬.১ (<১১০) | <৪২ | <৬.০ |
| ক্ষতিগ্রস্ত অভুক্তাবস্থা গ্লুকোজ | <৭.৮ (<১৪০) | ≥৬.১(≥১১০) & <৭.০(<১২৬) | ৪২-৪৬ | ৬.০-৬.৪ |
| ক্ষতিগ্রস্ত গ্লুকোজ সহনশীলতা | ≥৭.৮(≥১৪০) | <৭.০ (<১২৬) | ৪২-৪৬ | ৬.০-৬.৪ |
| ডায়াবেটিস মেলিটাস | ≥১১.১ (≥২০০) | ≥৭.০(≥১২৬) | ≥৪৮ | ≥৬.৫ |
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যতটা গুরুত্ব ওষুধ এবং ব্যায়ামের আছে ঠিক ততটাই গুরুত্ব ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা বা ডায়েট এর।
এটা একটি এমন রোগ যাতে রুটিন মাফিক খাওয়াই আপনাকে সুরক্ষিত রাখে। যদি আপনারই রুটিন মাফিক খাবারে আপনি কোন ত্রুটি করে ফেলেন অথবা একটি আবশ্যক দিনাচার এর অনুসরণ না করেন তাহলে আপনার সেই অনুপাতের আরো সমস্যা সহ্য করতে হতে পারে। এরূপ অবস্থায় আপনার এক আদর্শ খাদ্য তালিকা অথবা ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা আবশ্যক ।
১. শক্তি প্রদানকারী খাদ্য (ক্যালরি হিসেবে) :
যদি আপনি ডায়াবেটিসের শিকার হন তাহলে আপনার প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২৫-৩০ কিলোক্যালরি/প্রতিদিন। যাদের দৈহিক স্থূলতা আছে (বিএমআই ২৫-এর বেশি) তাদের জন্য ৩৫ কিলোক্যালরির কম।
২. শর্করা জাতীয় খাদ্য:
মোট শক্তির ৫৫%-৬০% শর্করা থেকে আসতে হবে। শর্করা জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস হতে পারে ভাত, রুটি, ডাল, মাছ-মাংস ও শিম ইত্যাদি।
পরিশোধিত শর্করা যেমন- চিনি, মধু, ময়দা, গুড়, মিছরি, বেকারির তৈরি বিভিন্ন রকম খাদ্যদ্রব্য-পাউরুটি, কেক, বিস্কিট ইত্যাদি ও তেলে ভাজা খাবার-যতটা সম্ভব ত্যাগ করতে হবে।
৩. আমিষ জাতীয় খাদ্য:
প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ৮ গ্রাম করে আমিষ প্রতিদিন খেতে হবে। গর্ভধারণ ও বাচ্চাকে স্তন্যদানের সময় এর পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে হবে (১২ গ্রাম/কেজি/দিন)। মাছ সবচেয়ে ভাল।
তারপর মাংশ বিশেষত মুরগির, টক দই ও ক্রিম ছাড়া দুধ খাবেন নিয়মিত। লাল মাংশ (গরু, খাসির মাংশ) বর্জন করাই উত্তম।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে আমিষ জাতীয় খাদ্য ও উপাদান সমূহ সবচেয়ে কম ঝুকিপূর্ণ।
৪. চর্বি জাতীয় খাদ্য:
প্রতিদিনের মোট প্রয়োজনীয় ক্যালরির ২০%-২৫% চর্বি থেকে আসলে ভাল। এর উৎস হতে পারে রান্নার তেল, ঘি, ডিম ইত্যাদি।
রান্নার তেল ও মাখন মিলিয়ে একজন ডায়াবেটিস রোগী মাসে ৭৫০ গ্রাম তেল খাবেন। বাদাম তেল, শর্ষের তেল ও সয়াবিন তেল-সব ধরনের তেলই মিলিয়ে মিশিয়ে খেতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ চামচ ঘি খাওয়া যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের মাটির নিচের খাবারের বিধি-নিষেধ সম্পর্কিত কিছু কুসংস্কার প্রচলিত আছে। এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভাল, খাদ্যদ্রব্যটি মাটির উপরের বা নিচের তা বিবেচ্য বিষয় নয়, এর ক্যালরি মান ও আঁশ কতটুকু আছে সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য গ্রহণ বিবেচনা করতে গিয়ে খাদ্য উপাদানের মতো খাদ্যগ্রহণের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতিদিনের মোট খাদ্যদ্রব্যকে কমপক্ষে ৫ ভাগে ভাগ করে খেতে হবে। কোনভাবেই দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার চেষ্টা করবেন না ।
ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
অনুমান করা হয়েছে যে, প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত 37% পর্যন্ত লোক 4 বছরের মধ্যে টাইপ 2 ডায়াবেটিস বিকাশ করে।
টাইপ 2 ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা অবস্থা যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অন্ধত্ব, কিডনি , হৃদরোগ এবং অন্যান্য গুরুতর অবস্থার কারণ হতে পারে।
প্রিডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে অগ্রগতি অনিবার্য নয়। যদিও আপনি আপনার জিন বা বয়সের মতো কিছু কারণ পরিবর্তন করতে পারবেন না।
তবে বেশ কয়েকটি জীবনধারা এবং খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন আপনার ঝুঁকি কমাতে পারে।
নিচের তালিকার খাদ্যদ্রব্যগুলো ডায়াবেটিস রোগীরা কোনো প্রকার ক্যালরি হিসেব ছাড়াই খেতে পারবেন। ডায়াবেটিস রোগী তার রুচি ও অভ্যাস মতো এর যেকোন এক একটি খাবার প্রতিদিনই খেতে পারবেন।
* চা বা কফি (চিনি ছাড়া)
* মসলা (ধনে, জিরা, হলুদ, মরিচ, আদা , রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদি)।
* খাবারের সুগন্ধ (ভেনিলা, স্ট্রবেরি)
* শাকসবজি (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।
* ফল (কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, আমলকি, কচি ডাবের পানি ইত্যাদি)।
* আচার (মিষ্টি ছাড়া)
* শর্করা বিহীন মিষ্টি
* শর্করা বিহীন মিষ্টি খাবার-সুকরোল, স্যাকারিন ইত্যাদি।
ডায়াবেটিস রোগীদের হিসাব মতো নিয়মিত খাওয়া যাবে
* ফল : আম- ছোট ১টি আমের অর্ধেক (৩০ গ্রাম), পাকা পেয়ারা ১টি (বড়)
লিচু – ৬ টি (বড়)
আতা ফল- ১ টি (৩০ গ্রাম)
কাঁঠাল- মাঝারি ৩ কোয়া (৫০ গ্রাম)
কমলা- ১ টি মাঝারি (৬০ গ্রাম)
আপেল- ১ টি, মাঝারি (৪০ গ্রাম)
মাল্টা- ১ টি মাঝারি (৫০ গ্রাম)
পাকা পেঁপে- ৩.৫/২/০.৫ মাপের ১টি
পাকা কলা- ১ টির অর্ধেক
নারিকেল- ২ চামচ কোরানো (৬ গ্রাম)
মিষ্টি কুল- মাঝারি ৬ টি (২৫ গ্রাম)
তরমুজ- মাঝারি ১ টুকরা (৪০ গ্রাম)
কেশর আলু- মাঝারি ১ টি (৩০ গ্রাম)
পাকা বেল- আধা কাপ (৩০ গ্রাম)
প্রতিদিন এসব ফলের যেকোন ১ টি উল্লেখিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। তবে একাধিক ফল একদিনে খাওয়া উচিত হবে না।
ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়া নিষেধ (অথবা খুবই সামান্য খাওয়া যাবে)
চিনি : চিনি দিয়ে তৈরি খাবার যেমন, কেক, পেস্ট্রি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি দধি, পুডিং, হালুয়া, মিষ্টি বিস্কিট, কোমল পানীয় ; কোকাকোলা -স্প্রাইট – ফান্টা – সেভেনআপ – পেপসি – মিরিন্ডা – আরসি কোলা – ইউরো লেমন – ইউরোকোলা – ফিজআপ – ভার্জিন, এ জাতীয় পানীয় এবং বাজারজাতকৃত ফলের রস ইত্যাদি ।
দৈনিক ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা
সকাল (৮ টা থেকে ৯টা)
আটার রুটি – ৪ টি, ছোট, পাতলা (প্রতিটি ৩০ গ্রাম বা মোট ১২০ গ্রাম)
ডিম – ১ টি
শাক সবজি- ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।
ফল ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, দেশি পেয়ারা, দেশি কুল, আমলকি ইত্যাদি)
সকাল (১১ টা থেকে ১১.৩০ মিনিট)
বিস্কিট / মুড়ি – ৩০ গ্রাম
ফল – ১টি ছোট আমের অর্ধেক / ১টি বড় পাকা পেয়ারা/৩টি মাঝারি আকারের কাঁঠালের কোয়া/১টি মাঝারি আকারের আপেল/১টি মাঝারি আকারের কমলা/পাকা পেঁপেঁ ৬০ গ্রাম।
দুপুর (১ টা থেকে ২ টা)
ভাত- ৪ কাপ (৩৬০ গ্রাম)
মাছ / মাংস- ২ টুকরা (৬০ গ্রাম)
ডাল – দেড় কাপ, মাঝারি ঘন (২৫ গ্রাম)
শাক সবজি – ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।
ফল ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, দেশি পেয়ারা, দেশি কুল, আমলকি ইত্যাদি)
বিকাল (৫টা থেকে ৬ টা)
দুধ – ১কাপ (১২০ মিলিলিটার) / ডাল বা চিনে বাদাম (৩০ গ্রাম)
রাত্রি (৮ টা থেকে ৮.৩০ মিনিট)
আটার রুটি – ৪ টি, ছোট, পাতলা (১২০ গ্রাম)
মাছ / মাংস ১ টুকরা (৩০ গ্রাম)
ডাল – দেড় কাপ, মাঝারি ঘন (২৫ গ্রাম)
শাক সবজি – ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে (পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, লাউ শাক, কুমড়ো শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, বেগুন, মরিচ, কলার মোচা ইত্যাদি)।
রান্নার জন্যে তেল – ৩০ মিলিলিটার
সারা দিনের ক্যালরি – ১৮০০ -১৯০০
শর্করা – ২৭০ গ্রাম
আমিষ – ৭০ গ্রাম
স্নেহ বা চর্বি – ৫০ গ্রাম
ডায়াবেটিস কি খেলে ভালো হয়
-
আপনার মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমাতে
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করার সময় আপনার কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা উচিত।
আপনার শরীর কার্বোহাইড্রেটগুলিকে ছোট চিনির অণুগুলিতে ভেঙে দেয়, যা আপনার রক্ত প্রবাহে শোষিত হয়। রক্তে শর্করার ফলে বৃদ্ধি আপনার অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন তৈরি করতে উদ্দীপিত করে, একটি হরমোন যা আপনার রক্ত প্রবাহ থেকে আপনার কোষে চিনি সরাতে সাহায্য করে।
প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেহের কোষগুলি ইনসুলিন প্রতিরোধী, তাই রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। ক্ষতিপূরণের জন্য, অগ্ন্যাশয় আরও ইনসুলিন তৈরি করে, রক্তে শর্করাকে কমিয়ে আনার চেষ্টা করে।
সময়ের সাথে সাথে, এটি ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে পারে যতক্ষণ না অবস্থাটি টাইপ 2 ডায়াবেটিসে পরিণত হয়।
অনেক গবেষণায় ঘন ঘন যোগ করা চিনি বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। এমন কী, রক্তে শর্করার উপর কম প্রভাব ফেলে এমন খাবারের সাথে এই আইটেমগুলি প্রতিস্থাপন করা আপনার ঝুঁকি কমাতে পারে ।
অতএব, সামগ্রিকভাবে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত কার্বোহাইড্রেট নির্বাচন করা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য শুধুমাত্র উচ্চ প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট সীমাবদ্ধ করার চেয়ে ভাল সমাধান হতে পারে।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায়ই ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যায়, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নামেও পরিচিত। এই অবস্থায়, আপনার অগ্ন্যাশয়কে আপনার রক্ত থেকে চিনি বের করে কোষে প্রবেশ করতে আরও ইনসুলিন তৈরি করে।
প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ 2 ডায়াবেটিস সহ প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যায়ামের মাধ্যমে কোষের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যার অর্থ হল আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরিচালনা করতে আপনার কম ইনসুলিন প্রয়োজন ।
ছোট ব্যায়াম যা 10 মিনিটের মতো স্থায়ী হয়, যেমন দ্রুত হাঁটা একটি দুর্দান্ত বিকল্প। আপনি যদি সবেমাত্র একটি ব্যায়াম রুটিন শুরু করেন, ছোট ওয়ার্কআউট দিয়ে শুরু করুন এবং প্রতি সপ্তাহে 150 মিনিট পর্যন্ত কাজ করুন।
-
আপনার প্রাথমিক পানীয় হিসাবে জল পান করুন
আপনার পছন্দের পানীয় হিসাবে জলের সাথে লেগে থাকা আপনাকে চিনির উচ্চ পরিমাণে পানীয় সীমিত করতে সহায়তা করবে।
সোডা এবং মিষ্টি ফলের রসের মতো চিনিযুক্ত পানীয় টাইপ 2 ডায়াবেটিস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সুপ্ত অটোইমিউন ডায়াবেটিস উভয়ের ঝুঁকির সাথে যুক্ত।
এছাড়াও, একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন চিনি-মিষ্টিযুক্ত পানীয় 1টি পরিবেশন টাইপ 2 ডায়াবেটিসের প্রবণতা 18% বাড়িয়ে দিতে পারে ।
তথ্য সূত্র
https://detective.police.gov.bd/epaper/
https://bn.wikipedia.org/wiki/