Breaking News

ফসফরাস

Phosphorus (ফসফরাস)

PHOSPHORUS
PHOSPHORUS

ফসফরাসেরমূলকথা:

ফসফরাস এক প্রকার অধাতব মৌলিক পদার্থ। আমাদের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ফসফেট থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। ফসফরাস এর মূল দ্রব্য অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশিয়ে তৃতীয় দশমিক ক্রম প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীক্রম পরিশোধিত অ্যালকোহল সহযোগে তৈরী হয়।

 

ফসফরাস এর অভাবে শরীরের অল্প স্থানে জ্বলে এবং শরীরের নানা স্থান যেমন মুখ, পাকস্থলী, ক্ষুদ্র অন্ত্র, মলদ্বার ইত্যাদি স্থানে জ্বলে, হাতে জ্বালা শুরূ হয়ে মুখমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, মেরুদন্ড জ্বলা এর বিশেষ লক্ষণ।

ফসফরাস এর অভাবে অত্যন্ত উৎকন্ঠা ও অস্থিরতা- একা থাকলে, ঝড় বৃষ্টির কিছু পূর্বে ও অন্ধকারে বৃদ্ধি পায় ।
বরফ ঠান্ডা খাবারের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহ ও উপশম, ঠাণ্ডা খাওয়ার পর বমি, লবন খাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
মস্তক, বুক, পাকাশয় ও সমস্ত উদরে খালি খালি অনুভূতি।
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হতে অনায়েশে রক্তস্রাব, সামান্য ক্ষত হতে প্রচুর রক্তস্রাব হয়।
ফসফরাস রোগীর মনে হয় যে আসনে বসে আছে , সেই আসনটি যেন উপরে উঠতে আছে।
অত্যন্ত ভালোবাসা পূর্ণ হৃদয়, অন্যের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট ও প্রভাবিত হয়।

 

 

ফসফরাসের বিশেষ লক্ষণ :

১। লম্বা, কৃশ, অপ্রশস্ত বক্ষ, ক্ষয়গ্রস্ত রোগী, কোমল চুল বিশিষ্ট বা স্নায়বিক,দুৰ্বল ব্যক্তি চুম্বকশক্তি পৃষ্ট হতে চায়; তাছাড়া মোমের মত বর্ণ ও প্রায় রক্তহীন, কামলা রোগগ্রস্ত রোগীদের পক্ষে ফসফরাস উপযোগী।

২। উদ্বিগ্ন, সকল সময়ে ও কাজে অস্থিরতা, রোগী স্থির হয়ে দাঁড়াতে বা বসতে পারে না। অন্ধকারে বজ্র সংযুক্ত ঝড়ের আগে একাকী থাকলে এই অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

৩। সর্বশরীরে জ্বালা; মুখ গহ্বরে, পাকস্থলীতে, ক্ষুদ্রান্তে,সরলান্ত্রে, স্কন্ধি স্থিদ্বয়ের নধবৰ্ত্ত স্থানে তীব্র জ্বালা, জ্বালা মেরুদন্ডের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, হাতের তালুতে জ্বাল ।

৪। শীতল দ্রব্যে আকাঙ্খা। আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছ এবং উহা সহ্যও হয়, শীতল জল পানের আকাঙ্খ কিন্তু উহা পাকস্থলীতে গরম হলে বমি হয়ে যায়। রোগী ঘন ঘন খেতে চায়, তা না হলে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন কি রাত্রিতে ঘুম থেকে উঠে তাকে খেতে হয়।

৫। মস্তকে, বক্ষে, পাকস্থলীতে ও সমগ্র উদরে-গহ্বরে নিমগ্নতা (sinking) মূৰ্ছাকল্পত্তা ও শূণ্যতানুভব।

৬। কাশি-সূৰ্যাস্ত থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত এবং বাঁ পাশে শুলে কাশি বাড়ে, ডানদিকে শুলে কাশি কমে। ডান দিকের ফুসফুসের নিম্নাংশ (lower lobe) সৰ্ব্বাপেক্ষা বেশী আক্রান্ত হয়।

৭। উদরাময়, জলের কলের মুখ থেকে জল পড়ার মত হুড় হুড় করে প্রচুর মল নির্গত হয়। সাগুদানার মত ছেট কণাযুক্ত জলের মত মল অথবা আমাশয়ের মত মূল সহ মলদ্বার বিস্তৃতভাবে হাঁ করে থাকে।

৮। উদাসীন, কথা বলতে চায় না, ধীরে ধীরে জবাব দেয়, অলসভাবে নড়াচড়া করে।

৯। কোষ্ঠবদ্ধ-মল কুকুরের বিষ্ঠার মত সরু, লম্বা, শুকনো ও দৃঢ়, অতি কষ্টে নির্গত হয়।

১০। রক্তস্রাবের প্রবণতাযুক্ত ঋতু। সামান্য আঘাত বা ক্ষত থেকেও প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হয়। মুখ দিয়ে রক্ত উঠে। জরায়ু থেকে প্রভূত রক্তস্রাব,অনুকল্প রজস্রাব, নাসিকা, পাকস্থলী, মলদ্বার ও রজলোপে মুত্রনালী থেকেও রক্তপাত হয়।

১১। স্বরযন্ত্রে এত বেদনা যে রোগী কথা বলতে পারে না। কাশি গরম থেকে ঠান্ডা হাওয়ায় গেলে, হাসলে, কথা বললে, আহারে, পড়লে ও বাঁ দিকে শুলে বাড়ে (ড্রসেরা, স্ট্যানাম)।

লক্ষণগুলির আকস্মিকতা, হঠাৎ করে দেখা দেওয়া দুর্বলতা, মূচ্ছা, ঘাম, তীরবিদ্ধবৎ বেদনা প্রভৃতি। রক্তে লোহিতকণিকার আধিক্য। তন্তুর ভিতরে রক্তক্ষরণ, চর্বি সঞ্চয় জনিত অপকাই পরিবর্তন, যকৃতের শুকিয়ে যাওয়া, অস্থিক্ষত, এই সকল রোগাবস্থায় প্রায়ই ফসফরাসের প্রয়োজন হয়।

মন :— প্রচন্ডভাবে মানসিক স্ফুর্তিহীণতা। সহজেই বিরক্ত হয়। ভীতি প্রবণ, রোগীর মনে হয় প্রতিটি কোন থেকে কিছু যেন বুকে হেঁটে বেরিয়ে আসছে। চমকিয়ে উঠার প্রবণতা। বাইরের উত্তেজনায় অতিরিক্ত অনুভূতি প্রবণ। স্মৃতিশক্তিহীণতা। উন্মাদ ব্যক্তিদের পক্ষাঘাত। মানসিক প্রফুল্লতা। একা থাকার সময় মৃত্যু ভয়। মস্তিষ্কে ক্লান্তির অনুভূতি। উন্মত্ততা, তৎসহ নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা। উত্তেজনাপ্রবণ, উত্তেজনার ফলে শরীরের সর্বত্র তাপ উৎপন্ন হয়। অস্থিরতা ও চঞ্চলতা। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অনুভূতির স্বল্পতা। হতাশ।

মাথা :– উঠার পরে, বৃদ্ধব্যক্তিদের মাথাঘোরা (ব্রায়োনিয়া)। মেরুদন্ড থেকে উত্তাপ আসে। স্নায়ুশূল, আক্রান্ত অংশ গরম রাখতে বাধ্য হয়। জ্বালাকর যন্ত্রণা। মাথার পুরাতন রক্তাধিক্য। মস্তিষ্ক বিকার, তৎসহমাথার পিছনের অংশের শীতলতা। মাথাঘোরা, তৎসহ মূর্চ্ছাভাব। কপালের চামড়া অতিরিক্ত টান বলে মনে হয়। মাথার চামড়ার চুলকানি। মাথায় খুসকি, মাথা থেকে গোছা গোছা চুল উঠে যায়।

চোখ: চোখে ছানি পড়া। মনে হয় যেন সকল দৃষ্ট বস্তু কুয়াশা অথবা অবগুণ্ঠন অথবা ধূলা দ্বারা ঢাকা এই জাতীয় অনুভূতি অথবা কোনকিছু চোখের উপর দিয়ে কষে টানা হচ্ছে এই জাতীয় অনুভূতি। চোখের সামনে কালো কালো বিন্দুসমূহ ভেসে বেড়ায়। রোগী চোখগুলি হাত দিয়ে আংশিকভাবে ঢেকে রাখলে, ভালো দেখতে পায়। চোখগুলিও মস্তিষ্কের ক্লান্তি, এমনকি চোখের অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হলেও। বাতির আলোর চারিদিকে সবুজবর্ণের জ্যোতি দেখতে পায় (অসমিয়াম)। অক্ষরগুলি লাল দেখায়। দৃষ্টিসংক্রান্ত স্নায়ুরশীর্ণতা। চোখের পাতা ও চোখগুলির চারিপাশের শোথাবস্থা। চোখের শুক্লমন্ডল মুক্তার মত সাদা এবং চোখের পাতার চুলগুলি অতিরিক্ত লম্বা ও রোগা। অতিরিক্ত তামাক সেবনের কুফল জনিত কারনে দৃষ্টিশক্তির আংশিকলোপ পাওয়ায় (নাক্স)। চক্ষু কোটরের অস্থির বেদনা। চোখের বাইরের পেশী সমূহের আংশিক পক্ষাঘাত। দৃষ্টি সম্পর্কিত অক্ষরেখার বিচ্যুতি হেতুদ্বিত্ব দর্শন। অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবার ফলে দৃষ্টি শক্তির দুর্বলতা গ্লুকোমা। রেটিনার ভিতরে থাকা রক্তবহানলী গুলির ভিতরে রক্তের জমাট বাঁধা ও রেটিনার কোষ সমূহের বিকৃত পরিবর্তন। রেটিনার গোলযোগ সমূহ তৎসহ আলোক ও দৃষ্টি সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারনা।

কান: কানে শোনা বেশ কষ্টকর, বিশেষ করে মানুষের কণ্ঠস্বর। শব্দসমূহ কানের ভিতরে প্রতিধবনি হয় (কষ্টিকাম)। টাইফয়েড রোগের পরে কান অল্প শোনে।

নাক :— নাকের পাখদুটি, পাখার মত নড়তে থাকে। (লাইকোপোডিয়াম)। রক্তপাত, মাসিক ঋতুস্রাবের পরিবর্তে নাক থেকেরক্তস্রাব। ঘ্রান সম্পর্কিত অতিঅনুভূতিপ্রবণতা (কার্বলিক অ্যাসিড, নাক্সভমিকা)। নাকের অস্থি আবরকের প্রদাহ। কল্পিত দূর্গন্ধসমূহ (অরাম মেটালিকাম)। পুরাতন সর্দি, তৎসহ অল্প রক্তস্রাব; রুমাল সর্বদা রক্তে পূর্ণ থাকে। নাকের কোমল অর্বুদ বা পলিপ; সহজেই রক্ত পাত হয়। (ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, স্যাঙ্গুইনেরিয়া)।

মুখমন্ডল: – ফ্যাকাশে রুগীর ন্যায়; চোখের নীচে নীলচে গোলাকার দাগ। মুখমন্ডল বিবর্ণ, চক্ষু কোটরগত। মুখমন্ডলের অস্থিসমূহে ছিড়ে ফেলার মত বেদনা; একদিকের অথবা উভয়দিকের গালে গোলাকার লালচে দাগ, নিম্নচোয়ালের স্ফীতি ও অস্থির পচন (অ্যামফিসবেনা, হেকলালাভা)।

মুখগহ্বর মাঢ়ী স্ফীত ও সহজেই রক্তপাত হয়, ক্ষতযুক্ত জামা-কাপড় ধোবার পরে দাঁতের যন্ত্রণা। জিহ্বা, শুষ্ক, মসৃন লাল অথবা সাদাটে। জিহ্বা তেমন পুরু লেপযুক্ত নয়। দাঁত তোলার পরে । অবিরাম রক্তস্রাব। স্তন্যপায়ী শিশুদের মুখের ভিতরে ঘা। খাদ্যনলীর ভিতরে জ্বালা। গলকোষ ও গলবিলের শুষ্কতা। খুব ঠান্ডা জলপানের পিপাসা। অন্ননালীর সংকীর্ণতা।

পাকস্থলী :— আহারের পরেই খুব আড়াআড়ি ক্ষুধা লাগে। প্রতিবার আহারের পরে মুখের আস্বাদ টক হয় ও টক ঢেকুর উঠে। আহারের পরে প্রচুর পরিমানে বায়ু ঢেকুরের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। ভুক্ত খাদ্যবস্তু মুখ ভর্তি করে উঠে। বমি;জল পাকস্থলীতে গিয়ে গরম দ্বার সঙ্গে সঙ্গে বমি হয়ে উঠে যায়। পাকস্থলীর উপরের অংশের ছিদ্র সঙ্কুচিত, অতিরিক্ত সরু বলে মনে হয়; খাদ্য বস্তু খুব কষ্ট করে গিলতে হয়, এবং গেলার সঙ্গে সঙ্গে তা উঠে আসে (ব্রায়োনিয়া, এলুমিনা)। পাকস্থলীর বেদনা;ঠাণ্ডা খাদ্যবস্তু, বরফে উপশম। পাকস্থলী স্থান স্পর্শে অথবাহাঁটাচলায় বেদনাপূর্ণ হয়ে উঠে। পাকস্থলীর প্রদাহ, তৎসহ জ্বালা, জ্বালা গলা ও অন্ত্র পর্যন্ত প্রসারিত হয়। অতিরিক্ত লবন খাবার কুফল সমূহ।

উদর :— ঠান্ডার অনুভূতি (ক্যাপসিকাম)। তীক্ষ্ম, কেটে ফেলার মত বেদনা। সমগ্র উদর গহ্বরে এক প্রকার দুর্বলতা জ্ঞাপক, শূন্য অনুভূতি। যকৃতের রক্তাধিক্য। যকৃতের তরুণ প্রদাহ। চৰ্ব্বি সঞ্চয়জনিত অপকৃষ্টতা (কার্বন টেট্রাক্লোরাইড; আর্সেনিক ক্লোরোফর্ম)। জন্ডিস অগ্নাশয়ের রোগসমূহ। পেটের উপরে বৃহদাকার, হলুদবর্ণের ছোপ সমূহ।

মল :– অতীব দূর্গন্ধযুক্ত মল ও বায়ু নিঃসরণ। মল লম্বা, সরু, শক্ত, অনেকটা কুকুরের মলের মত। মল নির্গত করা কষ্টকর। বামদিক চেপে শুলে মলত্যাগের বেগ। বেদনাহীণ, প্রচুর, দুর্বলকর উদরাময়। সবুজ আমযুক্ত মল, তৎসহ সাবুর মত দানাযুক্ত। অসাড়ে মলত্যাগ; মনে হয় যেন মলদ্বার ফাঁক হয়ে রয়েছে। মলত্যাগের পরে প্রচণ্ড দুর্বলতা। মলত্যাগের সময়, অন্ত্র থেকে রক্তস্রাব হয়। সাদা, কঠিন মল। রক্তস্রাবযুক্ত অর্শ।

প্রস্রাব :– রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব, বিশেষ করে তরুণ ব্রাইট্রি রোগের ক্ষেত্রে (ক্যান্থারিস)। প্রস্রাব খোলাটে, বাদামী বর্ণের, তৎসহ লাল তলানিযুক্ত।

পুরুষের রোগ :– সঙ্গম শক্তির অভাব। অদম্য ইচ্ছা; অসাড়ে বীর্যপাত, তৎসহকামুক স্বপ্নসমূহ।

স্ত্রীরোগ: – জরায়ুর প্রদাহ। ক্লোরোসিস। শিরার প্রদাহ। স্তনে ফোঁড়া হবাহ পরে নলীখা সমূহ। দুটি ঋতুকালের মধ্যবর্তী সময়ে সামান্য পরিমানে রক্তস্রাব। মাসিক ঋতুস্রাব নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে ও অল্প প্রচুর পরিমানে হয় না কিন্তু স্রাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। ঋতুস্রাবের পূর্বে রোগীনি ফুপিয়ে কাঁদে। স্তন্যগ্রন্থিতে সুচীবিদ্ধবৎ বেদনা। প্রদরস্রাব প্রচুর, হুলফোটানবৎ বেদনা, হাজাকর, ঋতুস্রাবের পরিবর্তে প্রদরস্রাব। রজঃরোধ, ঋতুস্রাবের পরিবর্তে অপর কোন উপসর্গের প্রকাশ পায় (ব্রায়োনিয়া)। স্তনগ্রন্থির পুঁজোৎপত্তি। জ্বালা, জলের মত, দুর্গন্ধযুক্তস্রাব। স্ত্রীলোকের কামোন্মত্তজা। জরায়ুর কোমল অবুদ।

শ্বাসপ্রশ্বাসযন্ত্রসমূহ :— স্বরভঙ্গ,সন্ধ্যায় বৃদ্ধি,কণ্ঠনলী অত্যন্ত বেদনাপূর্ণ। পেশাদার রক্তদাতাদের গলক্ষত, কথা বলার সময়ে, কণ্ঠনলীর ভিতরে তীব্র সুড়সুড়ির অনুভূতি। স্বরলোপ, সন্ধ্যায় বৃদ্ধি, তৎসহ হাজাকর অনুভূতি। কণ্ঠনলীতে বেদনা থাকায় কিছুতেই কথা বলতে পারে না। গলার ভিতরে সুড়সুড়ি থেকে কাশির উৎপত্তি, শীতল বাতাসে, পড়ার সময়ে, হাসির সময়ে কথা বলার সময়ে, গরম ঘর থেকে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে গেলে বৃদ্ধি। কাশির সময়ে মুখের ভিতরে মিষ্ট আস্বাদ। কঠিন, শুষ্ক, কষা, বেদনাপূর্ণ কাশি। ফুসফুসের রক্তাধিক্য।

বুকের ভিতরে জ্বালাকর বেদনা, গরমভাত ও শ্বাসরোধের ন্যায় অবস্থা। বুকের উপরে কষাভাব, বুকের উপরে প্রচন্ডভারীবোধ, বুকের ভিতরে তীক্ষ্ম, সূচীবিদ্ধবৎ বেদনা, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত, বাধাপ্রাপ্ত। বুকের ভিতরে অত্যন্ত তাপবোধ। নিউমোনিয়া, তৎসহ শ্বাসরোধের ন্যায় অবস্থা; বামদিক চেপে শুলে বৃদ্ধি। কাশির সঙ্গে সারা শরীর কাঁপে। শ্লেম্মা মরচে পড়ার মত রঙ যুক্ত, রক্তের মত রঙ যুক্ত অথবা পুঁজের মত। লম্বা, যেসকল যুবকেরা দ্রুত বাড়ে, তাদের টি.বি. রোগে। এই জাতীয় ক্ষেত্রে অতি নিম্নশক্তিতে এবং বারে বারে প্রয়োগ করতে নেই, যদি এইরূপ করা হয়, সেক্ষেত্রে টি.বি. রোগ জীবাণুর ধবংসকর ক্রিয়া খুব দ্রুত আরম্ভ হয়। কাশির সঙ্গে ফুসফুস থেকে বারে বারে রক্ত উঠে। (একানাইফা)। কাশির সময় গলায় বেদনা। স্নায়বিক কাশি, কাশির শুরু হয় কোন তীব্র গন্ধ। পাবার পরে অথবা অপরিচিত কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করলে; অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি কাশির বৃদ্ধি;বামদিক চেপে শুলে বৃদ্ধি;ঠান্ডা ঘরে বৃদ্ধি।

হৃদপিন্ড :– তীব্র হৃদকম্প তৎসহ মানসিক উদ্বেগ, যখন বাম দিক চেপে রোগী শুয়ে থাকে। নাড়ী দ্রুত, ক্ষুদ্র, এবং কোমল। হৃদপিন্ডের বৃদ্ধি, বিশেষ করে ডানদিকের বিবৃদ্ধি। হৃদপিন্ডের ভিতরে উষ্ণতার অনুভূতি।

পিঠ :— পিঠে জ্বালা ভেঙ্গে পড়ার মত বেদনা। দুটি স্কন্ধ্যাস্থির মধ্যবর্তীস্থানে উত্তাপের অনুভূতি। শিরদাঁড়ার দুর্বলতা।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ :– অনুভূতি ও গতি সম্পর্কিত স্নায়ুর উধর্বগামী পক্ষাঘাত, যা শুরু হয় হাত ও পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে। কন্যই ও ঘাড়ের সন্ধিতে সূচীবিদ্ধবৎ বেদনা। পায়ের পাতায় জ্বালা। যে কোন প্রকার পরিশ্রম থেকে দুর্বলতা ও কাঁপুণী। হাত দিয়ে কোন কিছু প্রায় ধরতে পারে না বললে চলে। পায়ের দীর্ঘাস্থি প্রদাহিত ও পচনশীল। বাহু ও হাতগুলির অসাড়তা। কেবল মাত্র ডানদিক চেপে শুতে পারে। ডিথিরিয়া রোগের পরে উদ্ভূত পক্ষাঘাত, তৎসহহাত ও পাগুলির সুড়সুড়ি। সন্ধিসমূহ হঠাৎ করে কার্যহীণ হয়ে পড়ে।

ঘুম :— প্রচন্ড নিদ্রালুতা, বিশেষ করে আহারের পরে। চোখ গোলা রেখে অচৈতন্য অবস্থা। বৃদ্ধলোকেদের নিদ্রাহীণতা। আগুন। সম্পর্কিত সুস্পষ্ট স্বপ্নসমূহ রক্তস্রাবের। কামোদ্দীপক স্বপ্নসমূহ। দেরী করে ঘুমাতে যায় এবং ঘুম থেকে জেগে উঠলে দুর্বলতা। অল্প সময় স্থায়ী নিদ্রা ও বারেবারে ঘুম ভেঙ্গে যায়।

জ্বর :— প্রতি সন্ধ্যায় শীতবোধ। রাত্রে হাঁটুগুলি ঠান্ডা হয়ে যায়। জীবনীশক্তির অভাব, তৎসহ তৃষ্ণাহীণতা, কিন্তু অস্বাভাবিক ক্ষুধা। ঘুষঘুষে জ্বর, তৎসহ ছোট, দ্রুত নাড়ী;রাত্রে চটচটে ঘাম। বোকার মত প্রলাপ। প্রচুর ঘর্মস্রাব।

চামড়া :– ক্ষত স্থান থেকেপ্রচুর রক্তপাত, এমনকি খুব ঘোট ক্ষতস্থান থেকেও; ক্ষত শুকিয়ে যায় এবং আবার প্রকট অবস্থায় ফিরে আসে। জন্ডিস। বড়োবড়ো ক্ষতের চারিদিকে, ছোট ছোট ক্ষতসমূহ। চামড়ার উপর উৎপন্ন বেগুনি বর্ণের উদ্ভেদসমূহ। কালশিরা। চামড়ার উপর রক্তবর্ণ দাগসমূহ। স্কার্ভি। ছত্রাক জাতীয় উপমাংস।

 

 ফসফরাসের ধাতু প্রকৃতি:

ক) যে সকল রক্ত প্রধান ধাতুর ব্যক্তির দীর্ঘ ও ক্ষীণদেহ, সুন্দর ত্বক, সুন্দর সূক্ষ্ম অথবা পিঙ্গল চুল, দ্রুত,তীক্ষ্ম অনুধাবনশক্তি এবং তীক্ষ্ম অনুভূতি তাদের পক্ষের ইহা উপযোগী।

খ) দীর্ঘ, ক্ষীণকায়া, সুকুমার চক্ষু-পক্ষ ও কোমল কেশ বিশিষ্ট যক্ষ্মাগ্রস্থ (Phthissical) রোগী।

গ) দীর্ঘ, ক্ষীণকায় যুবতী যারা কিছুটা অবনত হয়ে চলে,

ঘ) যে সকল যুবক যুবতী তাড়াতাড়ি বাড়ে, এবং যাদের কিছুটা অবনত মস্তকে চলার প্রবণতা থাকে (disposed to stoop),

ঙ) স্নায়বীয় দুর্বল ব্যক্তি, যারা ম্যাগ্নেটাইজড বা চুম্বক পৃষ্ট হতে পছন্দ করে তাদের পক্ষে ফসফরাস উপযোপী।

 

বৃদ্ধি :— ফসফরাসের রোগসকল সন্ধ্যায়, মাঝরাতের আগে (পালস, রাস-ট) বাঁদিকে শুলে বা ব্যথা যে দিকে সেদিকে শুলে, বজ্রবিদ্যুৎ যুক্ত ঝড়বৃষ্টির আগে, আবহাওয়া ঠান্ডা বা গরম যে কোন পরিবর্তনে। ঠান্ডা বাতাসে মাথা ও মুখের উপসর্গের উপশম দেয় কিন্তু বুক, গলা ও ঘাড়ের উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়।

উপশম :— অন্ধকারে, ডানদিকে শুলে, আক্রান্ত স্থান ঘসলে ও সমোহিত করলে, ঠান্ডা খাদ্য বা ঠান্ডা জলপানে যতক্ষণ না পাকস্থলীতে গিয়ে গরম হয় ।

শক্তি- ৩, ৬, ৩০, ২০০ হতে উচ্চতম শক্তি।

বিঃ দ্রঃ  হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য  হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।

( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>