চিকিৎসক কি রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঔষধ দিচ্ছেন?

ঔষধ একটি রাসায়নিক দ্রব্য যা প্রয়োগে মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়া প্রভাবান্বিত হয় এবং যা দ্বারা রোগ নিরাময় হয় বা প্রতিকার হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) সংজ্ঞার্থ অনুসারে: “দ্রব্যসমূহ যা রোগ নির্ণয়ে, আরোগ্যে (cure), উপশমে (mitigation), প্রতিকারে (treatment), অথবা প্রতিরোধে (prevention) ব্যবহার করা হয়” এবং “দ্রব্যসমূহ (খাদ্য বাদে) যা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর শারীরিক গঠন বা ক্রিয়াকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে” তাদের ঔষধ বলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে: “ঔষধ” শব্দটির বিভিন্ন রকম ব্যবহার হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঔষধ এমন দ্রব্য যার আরোগ্য (cure) এবং প্রতিরোধের (prevention) ক্ষমতা আছে অথবা যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
অতএব ,
ঔষধ একটি রাসায়নিক দ্রব্য যার মাধমে রুগী আরোগ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে , এটাই একজন ডাক্তারের কাম্য।
কিন্তু আরোগ্য (cure) না করে, বছর থেকে বছর রোগ প্রতিরোধের (prevention) করে চিকিৎসা চলতে থাকে।
যদিও ,বর্তমানে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং দামী ঔষধ দেবার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এমনকি রুগী যখন দীর্ঘ সময় ঔষধ খাবেন এবং রোগের নিরাময় না ঘটবে, তখন রুগীর মনে একধরনের ডিপ্রেশন তৈরী করে।
আমি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়লাম । আমি হয়তো আর সুস্থ জীবনে ফিরছি না, এরকম একটা আশংকা মনের ভিতর তৈরি হয়।
অথচ, অনেক সময় কম খরচে রোগ নিরাময়ের উপায় থাকলেও রোগীদের উপর বাড়তি খরচ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আবার দেখাযায় ,বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি দামী ঔষধ এবং বেশি ঔষধ লেখার জন্য অনেক ডাক্তারকে বিভিন্ন ভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে ।
তাতে ভোগতভুগী কারা ?—সেই রোগীরাই।
এমনিতে রোগের কষ্ট , তার উপর ডাক্তারদের চাপিয়ে দেওয়া বাড়তি ঔষধ।
আবার দেখা যায় , শারীরিক কোন সমস্যা তৈরি হলেই যারা নিজের ইচ্ছেমত ওষুধ কিনে খান, এসব ওষুধ তার স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে , তা জানেন না।
পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী না খেলে ওষুধে উল্টো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
যেমন , ব্যাথার ঔষধ, এলার্জি ঔষধ, গ্যাসের ঔষধ, ঘুমের ঔষধ, মোটা হওয়ার ঔষধের নামে বছর থেকে বছর দীর্ঘ সময় রুগী ঔষধ সেবন করেই যাচ্ছে।
আর এভাবে ঔষধের নিজস্ব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া চলতে চলতে মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়া প্রভাবান্বিত হচ্ছে ।
এই বাড়তি ঔষধ সেবনের কারনে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে –
রক্তসল্পতা , জন্ডিস, ব্লাড সুগার কমে যাওয়া,গ্যাসট্রিক, আলসার,স্পাইনাল কার্ডের সমস্যা,ব্লাড প্রেশার ও ডায়বেটিস বাড়তে থাকে সাথে কিডনি বা হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথি ওষধ স্নায়ুর মাধ্যমে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি জীবের সব ক্ষমতার উৎস এটা উপলব্ধি করে হোমিওপ্যাথিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে যতই ব্যবহার করা যাবে জনস্বাস্থ্যের ততই উন্নতি হবে।
রোগীর রোগ লক্ষণের সদৃশ লক্ষণ সম্পন্ন ওষধ সূক্ষ মাত্রায় প্রয়োগ করলে রোগীকে আরোগ্য করা যায় ।
হোমিওপ্যাথি ওষধ স্নায়ুর মাধ্যমে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি জীবের সব ক্ষমতার উৎস এটা উপলব্ধি করে হোমিওপ্যাথিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে যতই ব্যবহার করা যাবে জনস্বাস্থ্যের ততই উন্নতি হবে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানী হোমিওপ্যাথিক আবিষ্কারক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ১৭৯০ সালে আবিষ্কৃত তার এ চিকিৎসা পদ্ধতির নাম হোমিওপ্যাথি ।
তিনি আরো প্রমাণ করেন যেকোনো ওষুধ সুস্থ মানুষের ওপর যে রোগ লক্ষণ সৃষ্টি করে তা সৃদশ লক্ষণের রোগীকে আরোগ্য করতে পারে। অর্থাৎ ওষুধের রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতার মাধ্যমেই এর রোগ আরোগ্যকারী ক্ষমতা নিহিত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. হ্যানিম্যান তার বিশ্বখ্যাত অর্গানন অব মেডিসিন পুস্তকে উল্লেখ করেছেন।
হোমিওপ্যাথিক ওষুধের কাজ দুই ধরনের (১) রোগ সৃষ্টি করা ও (২) রোগ আরোগ্য করা।
তিনি তার নিজের ও ৫০ জন সহকর্মীর সুস্থ দেহে প্রায় ১০০টি ওষুধ স্থূলমাত্রায় বার বার প্রয়োগ করে পরীক্ষণ করেন। তখন এসব ওষুধের লক্ষণ তাদের ওপর প্রকাশ পায়। লক্ষণগুলো সংগ্রহ করে হোমিওপ্যাথিক মেটিরিয়া মেডিকায় এবং রেপার্টারি গ্রন্থে লিখে রাখেন।
যাতে চিকিৎসার সময় এগুলো ব্যবহার করা যায়। রোগ সৃষ্টিকারী এসব পরীক্ষার সময় ওষুধ সেবনের ফলে ওষুধ মুখ গহ্বরের স্নায়ুকে স্পর্শ করে এর অনুভূতিতে মস্তিকে পৌঁছে দেয়।
সেখান থেকে এর ক্রিয়ার অনুভূতি মন ও দেহে ওষুধগুলোর নির্দিষ্ট ক্রিয়াক্ষেত্রে পৌঁছে যায় এবং শরীর ও মনে ওষুধের নিজ নিজ লক্ষণ প্রকাশ করে।
এ ক্ষেত্রে সুস্থদেহ জীবনী শক্তির ক্ষমতাবলে জীবনীবল প্রয়োগ করে জীবনী সূত্র মোতাবেক এ কাজ সম্পন্ন করে।
পরবর্তী সময়ে গবেষকরা তার পরীক্ষণ করা অনেক ওষুধ পরীক্ষণ করে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তির প্রমাণ পান।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রোগীকে লক্ষণভিত্তিক সামগ্রিক ভাবে চিকিৎসা দিতে পারলে যেকোন রোগ অতি সহজেই নির্মূল করা যাবে।
অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
হোমিও ঔষধই গ্রহণ করুন……
সুস্থ থাকুন…….
নিরাপদে থাকুন……
বি:দ্র: অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধই গ্রহণ করা উচিত নয়, হিতের বিপরীত হতে পারে।
তথ্য সূত্র
