ওজন কমানোর উপায়

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণ কি ?
অতিরিক্ত খাওয়া, বংশগত ব্যাপার, কিংবা অসুস্থতা থেকে ওজন বাড়ে।
রোগীদের অনেকেই বলেন আমি খুব কম পরিমান খাই। কিন্তু স্বাস্থ্য এত বেড়ে যাচ্ছে, তার কারণ কি ?
শুধু যে বেশি খাবার খেলেই ওজন বেড়ে যায়, এই ধারণা একেবারেই ভুল। অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাসও ভালো নয়। সেটি হতে পারে ওজন বাড়ানোর প্রধান একটি কারণ।
তাছাড়া, ঘুমের, হতাশা ও ব্যথানাশক ওষুধ ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
অন্য অনেক কারণেও দেহে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। জেনে নেই কি কি কারণে এমনটা হতে পারে:-
- অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া
- অতিরিক্ত মাত্রায় চিনির খাওয়া
- অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
- বাড়তি ক্যালোরি গ্রহণ
- স্বল্প কার্বোহাইড্রেট-জাতীয় খাদ্যাভ্যাস
- স্ট্রেসের ফলে হরমোনে সমস্যা বৃদ্ধি
- থাইরয়েডের সমস্যা
- স্টেরয়েড গ্রহণ করলে
- অর্জিত ওজন না কমানো
- কম ঘুমানো
ওজন কমানোর উপায় কি ?
- আমাদের শরীরের ওজন যখন স্বাভাবিকের চাইতে অতিরিক্ত বেড়ে যায় তখন এটি বেশ অস্বস্তিকর হয় ।
- এই অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে অস্বস্থি এবং শরীরে অনেক রোগ ব্যাধিও বেড়ে যায় ।
- প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার খাচ্ছেন, তা থেকে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমাতে হবে। ওজন কমানোর সময়টায় লোভ করা যাবে না।
- ২/৩দিন ফাস্টিং করতে হবে।
- এক বেলায় একবারে বেশি খাওয়া যাবে না। অথবা অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে।
- অতিরিক্ত ক্যালরির খাবার, যেমন পোলাও, বিরিয়ানি—এসব একদম খাওয়া চলবে না। স্বাভাবিক খাবার পরিমাণমতো খেতে হবে।
- শর্করা জাতীয় খাবার , যেমন বীজ, মটর, শস্য ও সবজিজাতীয় খাবার খেতে হবে।
- একেবারে প্রোটিন বাদ দিলে পেশি কমে, ওজন নয়। তাই চর্বিবিহীন প্রোটিন খেতে হবে। যেমন- সামুদ্রিক সাদা মাছ, টক দই, মটরশুঁটি, মসুর ডাল, দেশি মুরগি।
- ওজন কমানোর খাবার – যেমন মাছ, চর্বিহীন মাংস, শাকসবজি, ফল, বাদাম, বীজ এবং লেবু খেতে পারেন।
- রান্না করার সময় তেলের পরিমাণ একদম কমিয়ে ফেলতে হবে। রান্নায় যতটুকু তেল না দিলেই নয়, ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করতে হবে।
- শুয়েবসে থেকে সুস্থভাবে ওজন কমানো সাধারণত সম্ভব নয়। তাই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মেদ ক্ষয় করতে প্রতিদিন অল্প হলেও ব্যায়াম করতে হবে।
ওজন কমানোর উপায় ডায়েট
শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে প্রথমে মাথায় আসে ডায়েট। মনে রাখবেন , না বুঝে দ্রুত ওজন কমাতে ইন্টারমেটিং ফাস্টিং, কিটো ডায়েট ইত্যাদি নানারকম ডায়েট করবেন না ৷ ডায়েট করা মানে, খাওয়া বা খাবারের পরিমাণ অতিরিক্ত কমিয়ে দেওয়া, তা নয় ।
ডায়েট মানে হলো, ব্যক্তি বিশেষে নিয়ন্ত্রিত বা শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ।
একজন ব্যক্তির ডায়েট করতে বয়স, ওজন, উচ্চতা, কাজের ধরন, লিঙ্গ ইত্যাদি বিবেচনা করে ব্যক্তির প্রয়োজনীয় দৈনিক ক্যালরি নির্ধারণ করা হয়।
ওজন বৃদ্ধি শুধু খাবারের জন্যই হয় তা কিন্তু নয়। শারীরিক অসুস্থতা, ঔষধ, হরমোন ইত্যাদি কারণেও ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
তাহলে , কী কারণে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে তা জানা খুব জরুরি।
অল্প পরিমানে বার বার সব ধরনের খাবার খেয়ে ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আপনি ওজন কমাতে পারেন।
জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন কীভাবে কমাবেন আপনার ওজন—
ওজন কমানোর উপায় ব্যায়াম করা
নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠার পর হালকা ব্যায়াম যেমন, জোরে জোরে হাঁটা বা দৌঁড়ানো, সাইকেল চালানো যা ক্যালরি পোড়াতে এবং শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করবে । যারা খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে চান না, তাদের অবশ্যই ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি কমাতে হবে।
পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম
বেশি করে রাত জাগা ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই রাত জাগার অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিতে হবে । রাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয় ঘুমাতে যেতে হবে ৷ রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে ।
পর্যাপ্ত পানি পান
যে কোনো খাওয়ার শুরু করার আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন। এতে আপনার পেট কিছুটা ভরবে এবং খাওয়ার সময় তুলনামূলকভাবে কিছুটা খাবার কম খাবেন। সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করুন। পানি বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিনি পরিহার করা
ওজন কমানোর জন্য খাদ্যতালিকা থেকে চিনি পুরোপুরি পরিহার করতেই হবে ।
মাত্র ১ চা-চামচ চিনিতে ১৬ শতাংশ ক্যালরি থাকে। অথচ , এই চিনির ক্যালরিই আমরা অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকি।
আবার অনেকে অতিরিক্ত খাবার হিসেবে কোমল পানীয়, সিংগাড়া, সামুচা এবং অন্যকোন ডুবো তেলে ভাজা খাবার আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে ।
ওজন কমাতে হলে কত ক্যালরি খেতে হবে?
- শরীরের ওজন কমাতে ক্যালরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিদিন 500 ক্যালোরির পরিমাণ কমাতে হবে।
- আপনার ক্যালোরি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলির মধ্যে রয়েছে:
- চিনিযুক্ত পানীয় এবং ফলের রস এড়ানোর চেষ্টা করুন।
- আপনার ডায়েটে আরও প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন।
- নিজেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে হাইড্রেট রাখুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম নিশ্চিত করুন।
- আপনার কার্বোহাইড্রেট (পরিশোধিত) গ্রহণ কমিয়ে দিন।
ওজন কমানোর জন্য সকালে খালি পেটে কি খেতে হবে?
- জিরা ভেজানো পানি জিরা ভেজানো পানি আপনার মেটাবলিজম বাড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।
- মধু-দারুচিনির পানীয় আপনার ওজন যদি নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তাহলে পান করতে পারেন এই পানীয়।
- গ্রিন টি খেতে পারেন।
- মৌরির পানি খেতে পারেন।
- ওজন কমানোর উপায় লেবু ।
- সকালে খালি পেটে লেবু-পানি শরীরের ফ্যাট দূর করে ওজন কমাতে সহায়তা করে।
- এটি মেটাবলিজম বাড়িয়ে দ্রুত ওজন হ্রাসে সাহায্য করে এবং বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি করে।
- তাছাড়া , ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর। এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে ।
ওজন কমানোর ইসলামিক উপায়
রোজা বা রমজানে আপনি কিন্তু খুব সহজেই শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারবেন।
কারণ রোজায় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা হয়। তাই কিছু নিয়ম মানলেই শরীরের ওজন সহজেই কমাতে পারেন । গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানে বেশ কয়েকটি নিয়ম মানলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব।
জেনে নিন কীভাবে ওজন কমাবেন-
রোজা বা রমজানে ওজন কমাতে চাইলে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন কফি ও চা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
সেহরি ও ইফতারে খুব বেশি ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা । সেহরি ও ইফতারে আপনি প্রচুর পরিমাণ সবজি ও ফল খান।
সেহরি কখনোই বাদ দেবেন না। এই সেহরি দিনের প্রথম খাবার, এই খাবার আপনাকে সারা দিন কর্মক্ষম রাখবে এবং শরীরের শক্তি জোগাবে।
ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। এবং ফলের জুস, লাচ্ছি ইত্যাদি খেতে পারেন । এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে ইফতারের সময় বা পরে উচ্চ পরিমাণ আঁশ ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাবেন ।
প্রোটিন ও আঁশ খেলে এগুলো বিপাক প্রক্রিয়াকে ভালো করতে সাহায্য করে।এতে ক্যালোরি পুড়তে সহজ হয়।
অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ে হাদিস
পেট ভরে খাওয়ায় শরীরে বিশেষ কোনো উপকার হয় না । এবং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও পেট ভরে খাওয়াকে মাকরুহ।
হজরত মিকদাম ইবন মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মানুষ পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (ইবনে মাজাহ)
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে , ‘নবীজি (সা.) বলেছেন, কাফের খায় সাত পাকস্থলী ভর্তি করে, আর তোমরা মুসলমানরা খাও একটিমাত্র পাকস্থলী ভর্তি করে।’ (তিরমিজি: ১৮১৮)
মুসলমান খাদ্য ও পানীয়কে এমন ভাবে খাবে , যার দ্বারা সে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতে সক্ষম হয়।
১ মাসে কত ওজন কমানো যায়?
সাধারণভাবে , প্রতি সপ্তাহে ১কেজি বা প্রতি মাসে ৪/৫ কেজি হারানোর লক্ষ্য রাখতে হবে এর চেয়ে বেশি ওজন কমানো বিপজ্জনক হতে পারে এবং অপুষ্টি, ডিহাইড্রেশন এবং ক্লান্তির মতো স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।
ওজন কমানোর উপায় ঔষধ
Fucus ves Q – শরীরে অতিরিক্ত ওজন কমানোর উপায় ঔষধ হিসেবে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় খালিপেটে অল্প পানির সাথে ১০ ফোঁটা করে খেতে পারেন ।
Calotropis Q – ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই কার্যকরী ঔষধ।
Calcarea Carb 200 – যারা দেখতে খুবই মোটাসোটা ও থলথলে শরীর, খুব কম সময়ে ওজন বৃদ্ধি পায় , তাদের জন্য এই ঔষধ ভালো কাজ করে।
Phytolacca Berry Q – এই ঔষধ শরীরের ওজন কমায় ও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয়না । ওষুধটি প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ ফোঁটা করে খালি পেটে খেতে পারেন ।
পাশাপাশি Phytolacca Berry 3X ট্যাবলেট ১টি করে তিনবার সামান্য গরম পানিতে সেবন করতে পারেন, আশাকরি ভালো ফল পাবেন ।
ওজন কমানোর ঔষধ জার্মানির Dr. Reckeweg কোম্পানির হোমিওপ্যাথিক ঔষধ R59 খুব কার্যকর।