Breaking News

এগারিকাস

Agaricus (এগারিকাস)

এগারিকাস ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ:

  • এই ঔষধের প্রধান লক্ষণ হলো সমস্ত শরীরে ঝাঁকুনি ও কাঁপুনি। রোগী মাতালের মতো টলমল করে চলে এবং মাথা কাঁপতে থাকে।
  • মানসিক পরিশ্রমের ফলে শরীরে চুলকানি, খোঁচা মারার মতো ব্যথা এবং ঝিনঝিন অনুভূতি হয়, কিন্তু শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এসব উপসর্গ উপশম হয়।
  • মেরুদণ্ডে আড়ষ্ট অনুভূতি এবং চাপ দিলে ব্যথা দেখা দেয়। পিঠে শীত এবং পিঁপড়া হাঁটার মতো অনুভূতি হয়।
  • যৌনক্রিয়ার পর সমস্ত রোগের লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।
  • শরীরে এমন অনুভূতি হয় যেন ঠাণ্ডা বরফের মতো সুঁচ ফুটছে।
  • রোগের লক্ষণ কোণাকুণিভাবে প্রকাশ পায়, যেমন ডান হাতে এবং বাম পায়ে অথবা তাদের বিপরীত দিকে।

এগারিকাস ঔষধের প্রধান লক্ষণ হলো অঙ্গ-মোচড়ানো এবং পেশীর কম্পন। পেশীর কম্পন এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কম্পনসহ দেহের সব অংশে স্পন্দন এবং মৃদু কম্পন—এই দুটি লক্ষণ সবসময়ই উপস্থিত থাকে। পেশীর কম্পন এত বিস্তৃত হয় যে এটি পূর্ণাঙ্গ কোরিয়া রোগে পরিণত হতে পারে। এই ঔষধের প্রকৃতিতে কোরিয়া রোগের সব লক্ষণই বিদ্যমান, এবং এটি অনেক কোরিয়া রোগীকে সুস্থ করেছে।

দেহের সব অংশের পেশীতে এটি প্রভাব ফেলে। রোগী সারা শরীরে সড়সড়ানি এবং পিপড়ে চলার মতো অনুভব করে। এই অনুভূতি শুধু চর্মে সীমাবদ্ধ নয়, মাংসেও বিদ্যমান থাকে। মনে হয় যেন পিপড়ে চলার মতো চুলকানি এবং চুলকালে স্থান পরিবর্তন করে।

এটি সমস্ত অঙ্গকে প্রভাবিত করে, এবং চর্মের উপরে কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিতে এক অদ্ভুত অনুভূতি, ঠান্ডা বা গরম সূচফোটার মতো অনুভূতি সৃষ্টি করে।

যেখানে রক্ত সঞ্চালন দুর্বল, যেমন কানের চারপাশে, নাকে, হাতের পেছনে, এবং পায়ের আঙ্গুলে, সেখানে হুলফোটানবৎ এবং জ্বালাকর যন্ত্রণা দেখা দেয়, তুষার-যন্ত্রণা সদৃশ চুলকানি এবং জ্বালা। এটি শীতাস্ফোট (পাঁকুই) রোগের একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ।

রোগী ঠান্ডায় অত্যন্ত স্নায়বিক এবং স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। মানসিক পরিশ্রমে চুলকানি, কাটা ফোটার মতো অনুভূতি এবং কনকনানি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়, যা শারীরিক পরিশ্রমে উপশম হয়।

এগারিকাসের সমস্ত লক্ষণ, বিশেষ করে মেরুমজ্জা সংক্রান্ত লক্ষণগুলি স্ত্রী-সঙ্গমের পর বৃদ্ধি পায়। তাই স্নায়বিক প্রকৃতির বিবাহিত মহিলাদের স্বামী সহবাসের পর দেখা দেওয়া বিভিন্ন লক্ষণ, যেমন হিষ্টিরিয়াজনিত মূৰ্ছারোগে এটি উপকারী।

এই ঔষধের মানসিক লক্ষণগুলি প্রত্যাশিত রূপেই ঘটে। এতে পরিবর্তনশীলতা, কোপনতা, এবং অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম বা দীর্ঘকাল পড়াশুনার পর অবসাদ দেখা দেয়। মনে হয় যেন মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাড়ছে। শিশুদের কথা বলা এবং হাঁটায় দেরি হয়।

এই লক্ষণগুলি ‘নেট্টাম মিউর’-এর সাথে মিলছে, যেখানে “বিলম্বে কথা বলা” এবং “ক্যাল্কেরিয়া কার্ব”-এর সাথে মিলছে, যেখানে “বিলম্বে হাঁটা” দেখা যায়। ক্যাল্কেরিয়া কার্ব-এর লক্ষণগুলি হাড়ের দুর্বলতা থেকে আসে, কিন্তু এগারিকাসে এটি ধীরে ধীরে বর্ধনশীল মনের জন্য হয়।

পেশীর নৃত্যযুক্ত এবং দ্রুত মূর্চা যাওয়া শিশুদের জন্য এটি কার্যকর; যৌবনোদ্গমের পূর্বে স্নায়বিক বালিকাদের জন্য যারা তিরস্কৃত হলে এবং উত্তেজনা ও মানসিক আবেগের ফলে মূর্চা যায়, এবং যাদের মানসিক বিকাশে বিলম্ব ঘটে। যেসব শিশুদের মনে রাখা কঠিন, ভুল করে এবং ধীরে ধীরে শিক্ষা নেয়, তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য।

স্নায়বিক ব্যক্তিরা যারা হাতের লেখা কাগজ পড়তে গিয়ে বানান ভুল করে, তাদের জন্যও এটি উপকারী। তাদের মনে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, ভাবগুলি দ্রুত গ্রহণ করতে পারে না, ভুল শব্দগুলি খেলার বৈচিত্র্যে ভাসতে থাকে। যখন পাঠ্যপুস্তক পড়ি, মনে হয় যেন “মনোজগতের সব কিছু পক্ষাঘাতগ্রস্ত,” তখন এটি খুবই স্পষ্ট হয়।

পুরো মন এবং চৈতন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত মনে হয়, রোগী অলস, নির্বোধ এবং মাঝে মাঝে প্রলাপপূর্ণ হয়; তার মানসিক বিশৃঙ্খলা প্রলাপের মতো হলেও, এটি মত্ততার চেয়ে ভিন্ন মনে হয়। মৃদু প্রলাপ থেকে উৎপন্ন প্রলাপের মতো; সে নির্বুদ্ধি হয়ে পড়ে, মুখস্থ কথা বলে, অসময়ে গান করে এবং শিস দেয়, কবিতা রচনা করে, ভবিষ্যদ্বাণী করে; অথবা একেবারে বিপরীত অবস্থা দেখা যায়—সে চারপাশের বিষয় সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ে। যে ব্যক্তি ধীর এবং শান্ত ছিল, সেই স্বেচ্ছাচারী, একগুঁয়ে এবং আত্মম্ভরী হয়ে ওঠে।

এগারিকাস ঔষধের – মূলকথা:

এগারিকাস ঔষধের বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিতভাবে বিবৃত করার মাধ্যমে এর ব্যবহারিক লক্ষণ ও প্রভাবগুলি তুলে ধরা হয়েছে। আসুন, সংক্ষেপে এই লক্ষণগুলোর বিশ্লেষণ করি:

মানসিক লক্ষণ

  • বাচালতা ও উদাসীনতা: রোগী গানের সুরে কথা বলে কিন্তু উত্তর দেয় না। কাজের প্রতি অনিচ্ছা ও উদাসীনতা দেখা যায়।
  • ভয়শূন্যতা: প্রলাপের সময় গান গাওয়া, চীৎকার করা এবং ভবিষ্যতবাণী করা লক্ষ্য করা যায়।
  • মনের পরিবর্তনশীলতা: মানসিক উত্তেজনার চারটি পর্যায় উল্লেখযোগ্য:
    1. সামান্য উত্তেজনায় আনন্দ ও উল্লাস।
    2. অতিরিক্ত মাদকতায় অসংলগ্ন কথাবার্তা ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি।
    3. ভয়াবহ প্রলাপ, ক্রোধোন্মত্ত উক্তি ও নিজেকে আঘাতের ইচ্ছা।
    4. মানসিক বিষন্নতা, ক্লান্তি ও উদাসীনতা।

শারীরিক লক্ষণ

  • মাথা: মাথার এক দিকে যন্ত্রণা, মাথা ঘোরা, এবং বরফের মতো ঠাণ্ডা অনুভূতি।
  • চোখ: পড়তে অসুবিধা, কম্পমান দৃষ্টিশক্তি, চোখের পাতার চুলকানি।
  • কান: জ্বালা ও চুলকানি, কানের চারপাশের পেশীর নর্তন।
  • নাক: চুলকানি, জলের স্রাব, কালচে স্রাব।
  • মুখমণ্ডল: মুখের পেশী শক্ত, চুলকানি ও জ্বালা।
  • মুখগহ্বর: ঠোঁটের জ্বালা, মুখের স্বাদ মিষ্টি, জিহ্বায় গোঁজ বেঁধার মতো বেদনা।
  • গলা: গলার শুষ্কতা, গলবিলের মধ্যে বেদনা।
  • পাকস্থলী ও উদর: শূন্য ঢেকুর, স্নায়বিক অসুবিধা, পাকস্থলীর চারিপাশে বেদনা।
  • প্রস্রাব: প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি, প্রস্রাবের সঙ্গে সূচীবিদ্ধ বেদনা।
  • স্ত্রীরোগ: অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, যৌনাঙ্গে চুলকানি ও ব্যথা।
  • শ্বাস-প্রশ্বাস: প্রচণ্ড কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ভারবোধ।
  • হৃদপিণ্ড: হৃদকম্প, হৃদপিণ্ডস্থানে চাপবোধ।
  • পিঠ: মেরুদণ্ড স্পর্শকাতর, কোমরের ব্যথা।
  • অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ: পেশীর আড়ষ্টতা, পায়ের আঙ্গুলের চুলকানি।
  • চামড়া: বরফের ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হওয়ার মতো জ্বালা, চুলকানি ও লালচে ভাব।
  • ঘুম: অতিরিক্ত হাই তোলা, অস্থির ঘুম, জীবন্ত স্বপ্ন।

সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

  • উপযুক্ততা: এই ঔষধটির প্রভেদ এবং প্রভাব বিভিন্ন শরীরের অংশে লক্ষ্য করা যায়। এটি বিশেষ করে স্নায়বিক সমস্যা ও প্রলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • মাত্রা: সাধারণত ৩য় থেকে ৩০ শক্তি এবং ২০০ শক্তি ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে চর্মরোগ ও মস্তিষ্কের ক্লান্তির ক্ষেত্রে নিম্ন শক্তি প্রয়োগ করা হয়।
বিঃ দ্রঃ  হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য  হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।

( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>