একোনাইট নেপিলাস (ACONITUM NAPELLUS)

এক প্রকার গাছ হতে প্রস্তুত , আমেরিকায় এই গাছ চাষ করা হয়। এশিয়া, মধ্য ইউরোপ ও হিমালয় পাহাড়েও ইহা প্রচুর পরিমানে জন্মায়।
একোনাইটের ৫টি শ্রেণী আছে –
১. একোনাইট নেপিলাস
২. একোনাইট ক্যামারাম
৩. একোনাইট ফেরক্স
৪. একোনাইট লাইকোটোনাম
৫. একোনাইট রাডিক্স
উক্ত পাঁচ প্রকার একোনাইটের মধ্যে “একোনাইট ক্যামারাম” -প্রায় চিকিৎসার ব্যবহৃত হয় না।
“একোনাইট লাইকোটোনাম” -ঘাড়, বগল, স্তন প্রভৃতি গ্ল্যান্ডের স্পিতিতে ।
“একোনাইট রাডিক্স”- কলেরায় এবং “একোনাইট ফেরক্স”- হৃৎপিণ্ডের বা ফুসফুসের পীড়ায় অত্যান্ত শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস, হাঁইপাঁই করা, শুইতে না পারিয়া বসিয়া থাকা, দম বন্ধের ভাব হওয়া প্রভৃতি কতিপয় লক্ষণে সুফলের সহিত ব্যাবহৃত হয় ।
“একোনাইট নেপিলাস” হোমিওপ্যাথির একটি প্রধান ঔষধ। কোনাইট দ্বারা আর্টারি ও ক্যাপি-লারির রক্তসঞ্চালন ক্ৰিয়া বন্ধ হয়ে শরীরের নানাস্থানে, যেমন – মস্তিস্ক, মেরুমজ্জা,শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, পেশী , গাঁট, পাকস্থলী, ফুসফুস হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ, শ্বাসনালী , প্লুরা, গলনালী প্রভৃতিতে রক্তাধিক্য ও প্রদাহ হয়।
হৃদপিণ্ডের উপর ক্রিয়া থাকায় হৃৎযন্ত্রের কোনও পীড়ায় ইহা ব্যবহৃত হইলেও তাহা সাময়িক উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয়।
একোনাইট নেপিলাসের চরিত্র লক্ষণ –
১. অত্যান্ত ছটফটানি , ভায়, চলিতে -বেড়াইতে সৰ্বদাই শঙ্কা ও মৃত্যু ভয়।
২. মুখে বলে আমি বাঁচিব না, আমাকে বাঁচাইতে পারিলেন না।
৩. দারুণ পিপাসা , অধিক পরিমানে পানিপান করে।
৪. পানি ছাড়া অন্য বস্তু তিক্ত বোধ।
৫. অন্তদাহ, কিন্তু গায়ের কাপড় খুলিলে শীতবোধ।
৬. দ্রুত ও কঠিন স্থুল নাড়ী।
৭. ঘাম সম্পূর্ণ বন্ধ।
৮. রাতে উপসর্গের বৃদ্ধি।
জ্বর হোক , প্রদাহ হোক অথবা অন্য পীড়া হোক না কেন , একোনাইটের পীড়া হলে পীড়াটি হঠাৎ আক্রমণ করে , দেখিতে দেখিতে সমস্ত রোগের লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।
জ্বর :-
জ্বরের ক্ষেত্রে অত্যান্ত দাহ , প্রবল পিপাসা , ঘাম একেবারে থাকেনা, ছটফটানি , যন্রণায় একেবারে অস্থির , নাড়ীর গতি অত্যান্ত দ্রুত , মৃত্যু ভয় অধিক থাকে।
স্বল্প বিরাম বা সবিরাম জ্বরে একোনাইট উপযোগী নয়। প্রবল এবং অবিরাম জ্বরেই উপকারী।
ঘাম হলে সমস্ত যন্রণার উপশম হয় , এজন্য ঘাম হলে ইহার আর প্রয়োজন হয় না।
কাশি:-
জ্বর বৃদ্ধির সময় কাশির বৃদ্ধি এবং কাশিলে মাথা ও বুকের বেদনা বৃদ্ধি পায়।
তড়কা :-
শিশুর দন্তোদ গমকালে,—উত্তাপ, উৎক্ষেপ একদিকের পেশীতে ঝাঁকানি দেয়, শিশু তাহার হাতের মুঠো কামড়ায়, খিটখিটে ভাব প্রকাশ করে, চিৎকার করে; গাত্রচর্ম শুষ্ক ও উত্তপ্ত, তার সাথে প্রবল জ্বর ।
বৃদ্ধি : সন্ধ্যায় ও রাত্রে বেদনা অসহ্য মনে হয়; গরম ঘরে, বিছানা হতে উঠে বসলে; আক্রান্ত পার্শ্বে চেপে শুলে ।
উপশম — খোলা বাতাসে ।
সম্বন্ধ – জ্বর, নিদ্রাহীনতা ও অসহ্য বেদনাবো্ধ লক্ষণে কফিয়া অনুপূরক । আঘাতে আর্নিকা অনুপূরক; সালফার সকল অবস্থায় অনুপূরক ।
একোনাইট সালফারের তরুণ অবস্থায় উপযোগী, তরুণ প্রদাহে উহা একোনাইটের পূর্বে ও পরে উভয় সময়েই ব্যবহৃত হয় ।
শক্তি —১x, ৩x, ৩০, ২০০, ১ এম ।
বিঃ দ্রঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।
( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )