Breaking News

অর্শ বা পাইলস

অর্শ বা পাইলস

অর্শরোগ বা পাইলস (Hemorrhoids) খুব পরিচিত মলদ্বারের একটি জটিল রোগ।

এ রোগে মলদ্বারের বাইরে বা ভেতরে, একপাশে বা চারপাশে, একটি বা একাধিক, গোলাকৃতি বা সুচাল গুটিকা দেখা দেয়। এ গুটিকাগুলোকে আমরা আঞ্চলিক ভাষায় ‘বলি’ বা ‘গেজ’ বলি।

মলদ্বারে যন্ত্রণা, রক্ত পড়া, মলদ্বার ফুলে ওঠা, জ্বালা করা ইত্যাদি অর্শ্বরোগের সাধারণ উপসর্গ। পায়খানা করার সময় এ বলিগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ সমস্যার অনুপাতে কারো অধিক পরিমাণে, কারো স্বল্প পরিমাণে রক্ত যায়। আবার অনেকের রক্ত যায়ই না। অনেকের ব্যাথা থাকে অনেকের থাকেনা।

পাইলস বা অর্শ রোগের সাধারণ উপসর্গ

  1. রক্তনালীর শিরাগুলো ফুলে বিভিন্ন লক্ষণ তৈরী করে, যেমন মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত। এমনকি অতিরিক্ত রক্তপাতের ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
  2. মলদ্বারে জ্বালাপোড়া ও চুলকানী হওয়া, মলদ্বারের মাংসপিন্ড বাইরে বের হতে পারে। কখনো মাংসপিন্ড নাও বের হতে পারে।
  3. মলদ্বার দিয়ে টাটকা রক্তপাত, যা ব্যথাবিহীন। এ সময় মাংসপিন্ড বাইরে বের হয় না।
  4. মলত্যাগের শেষে রক্তপাত হয়। রক্ত কখনো ফোঁটা ফোঁটা, কখনো ফিনকি দিয়ে যেতে পারে।
  5. মলত্যাগের সময় মাংসপিন্ড বাইরে বের হয়ে আসে, আবার ভিতরে ঢুকে যায়।
  6. মলত্যাগের সময় মাংসপিন্ড বাইরে বের হয়ে আসে, তা মলত্যাগের শেষে ভিতরে যায় না, হাত দিয়ে চাপ দিলে ভিতরে ঢুকে যায়।
  7. মাংসপিন্ড সর্বদা বাইরে থাকে, কখনো ভিতরে ঢুকে না। যা মলত্যাগে বাধা প্রদান করে থাকে।

পাইলস বা অর্শ রোগের কারণ :-

  1. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
  2. পানি কম খাওয়া
  3. অনিয়মিত মলত্যাগ
  4. মল ত্যাগে বেশী চাপ দেয়া
  5. আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া
  6. শরীরের অতিরিক্ত ওজন
  7. লিভার সিরোসিস।
  8. ভারি ওজন তোলা যা পেটে চাপ পড়া
  9. মহিলাদের গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ওপর চাপ পড়লে
  10. অ্যাসাইটিস
  11. দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে কাজ করা
  12. বৃদ্ধ বয়সে
  13. পরিবারে কারো অর্শের ইতিহাস থাকলে
  14. বারবার কৃমির আক্রমণ
  15. আইবিএস 
  16. বেশি মশলাযুক্ত খাদ্যগ্রহণ

পাইলস বা অর্শ রোগের হোমিও ঔষধ :

  • Aesculus Hip
  • Hamamelis Vir
  • Acid Nit
  • Nux Vom
  • Brayonia
  • Collinsonia
  • Paeonia off
  • Calcarea Fluorica
  • Sulphur
  • Acid Mur

পাইলস বা অর্শ রোগে আক্রান্তদের করণীয় :-

  1. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা।
  2. বেশী পরিমাণে শাকসবজী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
  3. প্রতিদিন ১২-১৮ গ্লাস পানি পান করা
  4. সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা
  5. প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো
  6. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
  7. টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা
  8. সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা
  9. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন চিকিৎসা গ্রহণ না করা।
  10. মল ত্যাগে বেশী চাপ না দেয়া
  11. দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তার চিকিৎসা নেয়া।
  12. চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিশ্রাম নেয়া।
  13. পেটে হজম হতে চায় না এমন খাদ্য বর্জন করা।
  14. হাতুরে ডাক্তার বা কবিরাজ দিয়েচিকিৎসা না করা।
  15. অধিক মশলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা।
  16. সমস্ত জাঙ্ক এবং ফাস্ট ফুড, তৈলাক্ত মশলার খাবার এড়িয়ে চলুন।

লক্ষন অনুযায়ী হোমিও ঔষধ সেবন করুন, সুস্থ থাকুন, জটিল রোগ নিরাময় হবে ইনশা আল্লাহ্ ।

বি:দ্র: অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধই গ্রহণ করা উচিত নয়, হিতের বিপরীত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>