Breaking News

রুটা গ্র্যাভিয়োলেন্স (RUTA GRAVEOLENS)

রুটা গ্র্যাভিয়োলেন্স (RUTA GRAVEOLENS)

সমনাম- গার্ডেন রু
রুটা দক্ষিণ ইউরোপের গুল্মজাতীয় গাছড়া-বাগানে চাষ হয়। তাজা পাতার রস গায়ে লাগলে চর্মে প্রদাহ হয়। ফুল ফোটার ঠিক আগে তাজা গুল্ম সংগ্রহ করে ওষুধ তৈরি হয় ।

 

চরিত্রগত লক্ষণ-

সমস্ত শরীরে ব্যথা, বিশেষত সন্ধি স্থানে ব্যথা ও অসাড়তা, যেন উঁচু যায়গা থেকে পড়ে গেছে বা কেহ লাঠি দিয়ে মারছে।
শরীরের যে স্থানে চেপে শুয় সে স্থানে অত্যন্ত ব্যথা, যেন সেখানে চোট লেগেছে।
বিশেষত হাতের কব্জি ও পায়ের গোড়ালি মচকে যাওয়ার মত ব্যথা।
বুকে সজোরে আঘাত লাগার ফলে যক্ষ্মা।
চোখের অতিরিক্ত ব্যবহার বা কোন জিনিস একদৃষ্টিতে লক্ষ্য করলে চোখের ভিতর ব্যথা লাগে বা ঝাপসা দেখে।
বই পড়ার সময় চোখের মধ্যে গরম, জ্বালা ও ব্যথা অনুভূতি হয়।
হাতের কব্জি সহ যে কোন স্থানে গ্যাংগলিয়ন টিউমার।

নির্দেশক লক্ষণ-

অস্থি :  অস্থিবেস্ট বা পেরিঅস্টিয়ামে আঘাত লাগা ও তার ফলে যে রোগ উৎপন্ন হয়, তাতে রুটার প্রধান ক্রিয়া । আর্নিকার মত এতেও শরীরের থেঁৎলে যাওয়ার মত ন্যায় বেদনা আছে ।

অস্থি আঘাত প্রাপ্ত হইবার পরে তাহাতে থেলাইয়া যাইবার ন্যায় বেদনা।বিশেষ করে, পড়ে মচকাইয়া যাইবার পরে খোঁড়াইতে থাকিলে উপসর্গের সৃষ্টি, এর বেদনাও সেরকম প্রকৃতির। মচকাইয়া গেলে আর্নিকার পরে ব্যবহার করিতে হয়।

বেদনা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও সন্ধিগুলিতেই বেশী। তাছাড়া যে দিকে ভর দিয়ে শোয়,তাতে থেঁৎলে গেছে এরূপ বোধ হয়। বিশেষতঃকজিতেশক্তি সঞ্চিত পদার্থের সৃষ্টি হয়।

সিঁড়ি দিয়া উঠিতে বা নামিতে হাঁটু দুইটি এলাইয়া পড়ে।
তীব্র ক্লান্তি দুর্বলতা এবং নৈরাশ্যের অনুভূতি। অস্থি আঘাত প্রাপ্ত হইবার পরে তাহাতে থেলাইয়া যাইবার ন্যায় বেদনা।

মাথা : যেন একটি পেরেক ফুটিয়াছে এইরূপ অনুভূতি;অত্যধিকমাত্রায় মাদক পানীয় দ্রব্য ব্যবহারের পরে। অস্থি আবরকে টাটানি ব্যথা। নাসিকা হইতে রক্তস্রাব।

চোখ : চক্ষুর পেশীগুলির অতিশ্রম। এই পেশীগুলি খুব বেশীভাবে পেশীবন্ধবিশিষ্ট। পেশীগুলির অবিরত ব্যবহারে অতিশ্রম হয়। চক্ষুর অতিচালনার পর শিরঃপীড়া দেখা দেয় এবং উহার ফল চক্ষুগোলক ও চক্ষুর আবরণের উপর গিয়া পড়ে, সেই জন্য অতিশ্রান্ত চক্ষু লাল হইয়া উঠে।

দৃষ্টিশক্তির ব্যবহার করিতে গেলে, চক্ষুর ভিতরে ও উপরে যন্ত্রণা হয়, দৃষ্টি শক্তির চালন হইতে বৃদ্ধিলক্ষণ উপস্থিত হয়। ছোট অক্ষরের ছাপা পড়িলে, সূক্ষ্ম সূচীকাৰ্য্য করিলে বৃদ্ধি হয়। দৃষ্টিশক্তির অতিচালনায় আরক্ততা, যন্ত্রণা এবং দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করিতে অক্ষমতা উপস্থিত হয়। তারপর শিরঃপীড়া দেখা দেয়।

চক্ষুদ্বয় জ্বালা করে, টনটন করে, অতি শ্রান্তবোধ হয়, সামান্যভাবে অস্পষ্ট দৃষ্টিবিশিষ্ট হয়; সন্ধ্যাকালে চক্ষু ব্যবহার করিলে লক্ষণগুলি বৃদ্ধিযুক্ত হয়।

অক্ষিকোটরের গভীরদেশে বেদনা। অক্ষিপত্রের উপস্থিতে থেঁৎলাইয়া যাইবার ন্যায় ব্যথা। ভ্রু উপর চাপবোধ। ক্ষীণ বা বেদনাদায়ক দৃষ্টি।

মূত্রাশয়:  মূত্রথলীতে চাপবোধ যেন মূত্রাশয় পরিপূর্ণ রহিয়াছে এইরূপ অনুভূতি। প্রস্রাবের শেষভাগ বেদনাদায়ক। প্রস্রাব করলেও নিরন্তর মূত্রবেগ লাগিয়া থাকে ।

বেগ আসলে চেপে রাখা কষ্টকর, বেগ এলে যদি প্রস্রাব না করে তবে পরে প্রস্রাব ত্যাগে কষ্টবোধ হয়। অল্প পরিমাণে সবজে-প্রস্রাব বার হয়, প্রস্রাব অসাড়ে হয় এসব লক্ষণে উপযোগী।

সরলান্ত্র : কোষ্ঠবদ্ধতা একটি বিশেষ লক্ষণ তৎসহ মলত্যাগকালে সরলান্ত্র নির্গমন। পুনঃ পুনঃ নিষ্ফল মলবেগের সহিত মলদ্বার নির্গমন। প্রসবের পরবর্তী সরলান্ত্র নির্গমন। বসিয়া থাকাকালে সরলান্ত্রে যন্ত্রণা। সরলান্ত্রে যেন ক্ষত জন্মিয়াছে এরূপ যাতনা। ইহা অর্শরোগে এবং সরলান্ত্রের অস্বাভাবিক সঙ্কোচনে একটি উপযোগী ঔষধ।

মলত্যাগ কষ্টসাধ্য, খুব জোরে কোঁথ দিলে মল নির্গত হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা এবং আমময়, ফেনাযুক্ত মল পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয়;মলের সঙ্গে রক্তনির্গমন। উপবেশনকালে, সরলান্ত্রে সূচীভেদবৎ যন্ত্রণা, যেন স্থানটি বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইবে।অন্ত্রের নিম্নভাগেক্যান্সার।

শ্বাসযন্ত্র :  কাশি, তৎসহ প্রচুর, হলদে ও পুরু শ্লেষ্মনির্গমন;বক্ষঃস্থল দুর্বল বলিয়া মনে হয়। বুকের অস্থির উপর একটি বেদনাপূর্ণ ক্ষুদ্র স্থান;ক্ষীণ শ্বাস তৎসহ বক্ষঃস্থলে কষাভাব।

পিঠ:  গ্রীবার পশ্চাৎভাগ, পৃষ্ঠও কোমরে বেদনা। পৃষ্ঠবেদনা, প্রচাপনে এবং চিৎ হইয়া শয়নকালে উপশম। প্রাতঃকালে শয্যাত্যাগ করিবার পূর্বে কটিবেদনা। 

প্রত্যঙ্গাদি:  মেরুদন্ড এবং প্রত্যঙ্গাদিতে থেঁৎলাইয়া যাইবার ন্যায় বেদনা।কটিদেশে বেদনা। উরু এবং উরুসন্ধি এতই দুর্বল যে চেয়ার হইতে উঠিবার সময় পাগুলি অবসন্ন হইয়া পড়ে। অঙ্গুলিগুলি সংকুচিত। কজি এবং হস্তগুলিতে বেদনা ও আড়ষ্টতা। লসীকাবাহী গ্রন্থির স্ফীতি।
সায়েটিকা;রাত্রে শয়নকালে বৃদ্ধি । পৃষ্ঠদেশ হইতে উরুসন্ধি এবং উরুরউপর দিয়া নিম্নগামী বেদনা। পেশীবন্ধনীগুলিতে টাটানিব্যথা। গুলফদেশীয় সুদৃঢ় করায় কনে বেদনা হয়। প্রত্যঙ্গাদি প্রসারিত করিলে উরুদেশে বেদনাহয়। চরণ এবং গুলফদেশীয় অস্থিগুলিতে বেদনা। অতীব অস্থিরতা।

হ্রাস/উপশম– চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে, গরমে ও সঞ্চালনে।

বৃদ্ধি – অবস্থান্তর সংঘটক – শয়নে, ঠান্ডায়, আর্দ্র জলবায়ুতে, আঘাত, মচকানো, অতিরিক্ত চোখের কাজ, স্পর্শ, ঋতুস্রাবের সময়, উঠা-নামা করলে।

সম্বন্ধ—তুলনীয় – আর্নি, আর্জে নাই, কোনি, ইউফ্রে, ফাইটো, রাস-ট, সিমফাইটাম, সন্ধিস্থানের আঘাতজনিত উপসর্গে আর্নিকার পর ও হাড়ে আঘাত লেগে রোগ হলে সিমফাই-এর পরে এ ঔষধে আরোগ্য কার্য দ্রুততর করে।

ক্রিয়ানাশক– ক্যাম্ফর।

অনুপূরক – ক্যাল্কেরিয়া ফস।

শক্তি — প্রথম হতে ষষ্ঠ শক্তি। চক্ষুরোগে স্থানিকভাবে টিংচার প্রযোজ্য হতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>