Breaking News

অরাম মেট

Aurum Met(অরাম মেট)

অপর নাম –গোল্ড, অরাম, মেটালিক গোল্ড, স্বর্ণ।

অরাম মেট হল একটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ যা বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উপকারে আসে।

এটি দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা এবং মাথার চাপের চিকিৎসায় সাহায্য করে, এবং টনসিলাইটিস ও গলা ব্যথার চিকিৎসাতেও কার্যকর। পেট এবং ইনগুইনাল গ্রন্থিগুলির জ্বালা ও ব্যথা উপশম করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

হোমিওপ্যাথিক ফর্মুলেশন অনুসারে, এটি ব্যবহারের জন্য নিরাপদ এবং সাধারণ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখে। এটি রক্ত, হাড় এবং গ্রন্থিগুলির ওপর সুপ্রভাব বিস্তার করে।

এক্সোস্টোসিস, ক্যারিস, গ্রন্থিগুলির প্রদাহ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার, ধমনী ও মস্তিষ্কের স্ক্লেরোসিসের মতো সমস্যা সৃষ্টির জন্য এটি নির্দেশিত হয়। শরীরের গহ্বরে জমাট ও তরল সংগ্রহের সমস্যায়ও এটি উপকারী।

 অরাম মেট বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়, কেসের বিশেষ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে।

 যদি সম্পূর্ণভাবে অরাম ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি মানব শরীরের রক্ত, গ্রন্থি এবং অস্থির ওপর প্রভাব বিস্তার করে এমন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে যা সিফিলিস ও পারদঘটিত দোষের উপসর্গের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিলিত হয়।

শরীরের তরল পদার্থের বিচ্যুতি এবং শারীরিক তন্তুর পরিবর্তনের কারণে অরাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অরাম সিফিলিস রোগীর মতো মানসিক অবসাদ সৃষ্টি করে, যার ফলে হতাশা, নৈরাশ্য এবং আত্মহত্যার তীব্র ইচ্ছা দেখা দেয়। রোগী নিজেকে ধ্বংস করার বিভিন্ন উপায় অনুসন্ধান করতে থাকে।

 

 

অরাম মেট ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ:

 

  • মানসিক বিষন্নতা, আত্মহত্যার অদম্য ইচ্ছা, এবং নৈরাশ্যের গভীর অভিজ্ঞতা যেমন অনুভূত হয়।
  • রোগী প্রায়শই মনে করে যে, মৃত্যু হলেই জীবন মিটবে এবং তার সবকিছু ভারী ও খিটখিটে মেজাজে ভরা থাকে।
  • উপদংশজনিত অস্থিরতা ও পারদের অপব্যবহারজনিত অসুস্থতা দেখা যায়।
  • নাক ও অন্যান্য স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষত, বিশেষ করে নাকের ভিতর ক্ষত হতে পারে।
  • অস্থি বা হাড়ে বেদনা অনুভূত হয়, যা রাতের বেলায় আরও বাড়ে।
  • মস্তকের চুল পড়তে থাকে, বিশেষত উপদংশজনিত কারণে।
  • বয়ঃসন্ধি বালিকার মুখে অত্যন্ত দুর্গন্ধ দেখা যায়।
  • শরীরের ভিতরে গরম অনুভূতি হয়, কিন্তু বাহিরে ঠান্ডা অনুভূতি বজায় থাকে।

 

অরাম মেট ঔষধের – মূলকথা:

 

মানসিক অবস্থার বর্ণনা

  • রোগী নিজেকে তিরস্কার করতে ও অপদার্থ মনে করতে প্রবণ।
  • তীব্র নৈরাশ্য ও আত্মহত্যার ইচ্ছা পোষণ করে।
  • আত্মহত্যার কথা প্রায়ই বলে, মৃত্যুকে মুক্তির পথ মনে করে।
  • সর্বদা খিটখিটে মেজাজে থাকে এবং সামান্য কারণে রেগে যায়।
  • মানুষে ভীতি, মানসিক অস্থিরতা।
  • প্রশ্নের দ্রুত উত্তর এবং কোনো কাজেই দ্রুত করতে আগ্রহী নয়।
  • অতি অনুভূতিপ্রবণ, উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

শারীরিক লক্ষণ

মাথা: মাথায় তীব্র যন্ত্রণা যা রাতের বেলায় বৃদ্ধি পায়, মাথার বাইরের দিকে চাপ অনুভূতি।

 মাথার ভিতর গর্জন ও মাথা ঘোরা। মস্তিস্ক থেকে কপাল পর্যন্ত ছিঁড়ে যাওয়ার মত বেদনা। মুখমন্ডল পর্যন্ত প্রসারিত অস্থি বেদনা। মাথায় রক্তাধিক্য ও ছোট ছোট ফোঁড়া।

চোখ: তীব্র আলোকাতঙ্ক, চোখের চারপাশে টাটানির মত ব্যথা। দৃষ্টির উপরিভাগ দেখতে না পারা।

চোখের চারপাশে অস্থি বেদনা। চোখের সামনে জ্বলন্ত বস্তু দেখা যায়। চোখের চারপাশের অস্থিতে বেদনা, ভিতর থেকে বাইরে বেদনা। ট্র্যাকোমা ও কনীনিকা রক্তাধিক্য।

কান: কানের ভিতরের ছোট অস্থি ও চর্বনের ক্ষত। স্কারলেটিনার পর দুর্দমনীয়, দূর্গন্ধযুক্ত কর্ণস্রাব। কানের বাইরের ছিদ্র পুজেঁ ভর্তি।

পুরাতন স্নায়বিক বধিরতা। সিফিলিসজনিত কারণে কানের ভিতরের পর্দার রোগ।

নাক: ক্ষতযুক্ত, যন্ত্রনাদায়ক, স্ফীত। নাকের প্রদাহ, ক্ষত, দূর্গন্ধযুক্ত স্রাব, পুঁজযুক্ত, রক্তমিশ্রিত স্রাব।

নাকের ভিতর ছিদ্র করার মত বেদনা, রাত্রিতে বৃদ্ধি। পচা গন্ধ বেরিয়ে থাকে। গন্ধে অনুভূতিপ্রণ । নাক ও মুখ থেকে বিকট গন্ধ।

মুখগহ্বর: বয়ঃসন্ধিকালে বালিকাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ। মাড়ীর ক্ষত।

মুখমণ্ডল: মুখমণ্ডলের ছিঁড়ে ফেলার মত বেদনা। চর্বন অস্থি ও মুখমণ্ডলের অন্যান্য অস্থির প্রদাহ।

গলা: ঢোক গিলার সময় সূঁচ ফোটার মত বেদনা। গ্রন্থির বেদনা। তালুর ক্ষত।

পাকস্থলী: ক্ষুধা ও পিপাসার বৃদ্ধি, সাময়িক অসুস্থতাবোধ। এপিগ্যাসট্রিয়াম স্থানে স্ফীতি। পাকস্থলীতে জ্বালা ও ঢেকুর উত্তপ্ত।

উদর: পেটের ডানদিকের উপরের অংশ উত্তপ্ত ও যন্ত্রনাদায়ক। পেটের ভিতর বায়ুসঞ্চয়, কুঁচকিস্থানের গ্রন্থির স্ফীতি ও পুঁজোৎপত্তি।

প্রস্রাব: ঘোলাটে, পুরু তলানিযুক্ত মূত্র, যন্ত্রনাদায়ক মূত্ররোধ।

সরলান্ত্র: কোষ্ঠকাঠিণ্য, মলশক্ত ও গুটলে মত। রাত্রিকালীন উদরাময় ও সরলান্ত্রে জ্বালা।

পুরুষের রোগ: অন্ডদ্বয়ের স্ফীতি ও যন্ত্রণা। পুরাতন কঠিনতা, লিঙ্গোদ্রেক। বালকদের অণ্ডদ্বয়ের শীর্ণতা, হাইড্রোসিল।

স্ত্রীরোগ: যোনি নলী অত্যধিক অনুভূতি প্রবণ। জরায়ুর বিবৃদ্ধি ও স্থানচ্যুতি। বন্ধ্যাত্ব। যোনিনলীর আক্ষেপ।

হৃদপিণ্ড: হৃদপিণ্ডের স্পন্দন দুই অথবা তিন সেকেণ্ডের জন্য থেমে গিয়ে পরে জোরে কম্পন শুরু হয়।

 পেটের উপরের অংশে খালি বোধ, হৃদকম্প। নাড়ী দ্রুত, ক্ষীণ, অনিয়মিত। হৃদপিণ্ডের বিবৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদকপাটিকার রোগ ।

শ্বাস-প্রশ্বাস: রাতের বেলায় শ্বাসকষ্ট, বার বার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, বুক্কাস্থি স্থানে সূঁচফোটার মত বেদনা।

অস্থি: অস্থিক্ষয়, সেকেণ্ডারী সিফিলিসের মতো। মাথায় হাড়ের বেদনা, মাথার চামড়ার নীচে পিণ্ডের মত দলা, অস্থির বিবৃদ্ধি, রাতের বেলায় অস্থিবেদনা।

নাকের, তালুর ও চর্বন অস্থির ক্ষয়। আক্রান্ত অস্থিতে টাটানি ব্যথা, মুক্ত বাতাসে আরাম, রাত্রে বৃদ্ধি।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ: শরীরের সমস্ত রক্ত মাথা থেকে নিম্নাঙ্গের দিকে ছুটে চলে, নিম্নাঙ্গের শোথ। উত্তেজনা, মনে হয় যেন সমস্ত শিরার মধ্যে রক্ত ফুটছে। সন্ধিস্থানে পক্ষাঘাতের মত বেদনা, হাঁটুর দুর্বলতা।

ঘুম: অনিদ্রা। ঘুমের মধ্যে জোরে ফোঁপাতে থাকা। ভয়যুক্ত স্বপ্ন।

চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনা

ইচ্ছা: দুধ পানের, খোলা বাতাসে থাকা।

অনিচ্ছা: মাংস খেতে।

অসহ্য: ঠান্ডা।

সম্বন্ধ-তুলনীয় ঔষধ:

  • অরাম: আর্স, অরাম ব্রোম, অরাম মিউর, অরাম মিউর কেলি, অরাম আয়োড, অরাম সালফ।
  • এসাফেটিডা: নাকের ও কানের অস্থির ক্ষত।
  • সিফিলিন, কেলি আয়োড, হিপার মার্কিউরিয়াস, মেজেরিয়াম, নাইট্রিক অ্যাসিড, ফসফরাস।

দোষঘ্ন: বেলেডোনা, সিঙ্কোনা, কুপ্রাম, মার্কিউরিয়াস।

শক্তি: ৩য় থেকে ৩০ শক্তি, বিশেষত উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে ৩০ শক্তি প্রযোজ্য।

 

বিঃ দ্রঃ  হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য  হোমিও চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ঔষধ সেবন করুন।

( হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই মেটেরিয়া মেডিকা হতে প্রকাশিত )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-7254298778630529"
     crossorigin="anonymous"></script>